প্রিয়জনের সঙ্গে খাবার খেলে সম্পর্ক গাঢ় হয়, রক্তে শর্করাও থাকে নিয়ন্ত্রণে
ব্যস্ত জীবনের কারণে অনেকেরই প্রিয়জনকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়ে ওঠে না। সকালে তাড়াহুড়া, দুপুরে আলাদা কর্মস্থল আর রাতে ভিন্ন সময়ে খাওয়া—এভাবেই কেটে যায় দিন। পরিবার বা সঙ্গীর সঙ্গে বসে একবেলা খাওয়ার সুযোগও মেলে না।
এই অভ্যাস কেবল সম্পর্কেই দূরত্ব তৈরি করছে না, প্রভাব ফেলছে স্বাস্থ্যেও। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাছের মানুষের সঙ্গে বসে খাবার খেলে রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) ওঠানামা তুলনামূলক কম হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, একা একা খাওয়ার তুলনায় প্রিয়জনের সঙ্গে একই খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম বাড়ে এবং শরীর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। গবেষকদের মতে, মানুষের শরীরের ভেতরের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রক্রিয়ায় সামাজিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধারণাকে বিজ্ঞান ভাষায় বলা হচ্ছে ‘সোশ্যাল ফিজিওলজি’ বা ‘সামাজিক শারীরবৃত্ত’।
অংশগ্রহণকারীরা একই খাবার একবার একা এবং অন্যবার সঙ্গীর উপস্থিতিতে খান। দুই পরিস্থিতিতে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, গবেষকেরা তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দেখা যায়, সঙ্গীর উপস্থিতিতে খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা একা খাওয়ার চেয়ে কম বাড়ে এবং দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।
বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা সাময়িকী ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ৫৪টি রোমান্টিক দম্পতির (১০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক) খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিবর্তন পরীক্ষা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা একই খাবার একবার একা এবং অন্যবার সঙ্গীর উপস্থিতিতে খান।
দুই পরিস্থিতিতে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, গবেষকেরা তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দেখা যায়, সঙ্গীর উপস্থিতিতে খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা একা খাওয়ার চেয়ে কম বাড়ে এবং দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।
কাছের মানুষের উপস্থিতির এই প্রভাব অন্যান্য শারীরিক প্রক্রিয়াতেও দেখা যায় কি না, তা জানতে আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়-
শরীরের তাপমাত্রা: ঠান্ডার সংস্পর্শে ১১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ককে রেখে দেখা যায়, সঙ্গী পাশে থাকলে শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন কম হয় এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে।
চাপ বা স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া: ১১৫ জন প্রাপ্ত বয়স্কের শরীরে হালকা বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দিয়ে দেখা গেছে, সঙ্গীর উপস্থিতিতে শরীর কম সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখায়।
মা ও শিশু: ৫৬টি মা-শিশু জুটিকে নিয়ে করা একটি প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, মায়ের উপস্থিতিতে শিশুর মানসিক বা শারীরিক চাপজনিত প্রতিক্রিয়া অনেক কমে যায়।
কেন এমন হয়?
সাধারণত মনে করা হয়, মানুষের শরীর নিজের ভেতরের ভারসাম্য নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এই গবেষণার ফল বলছে, শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় চারপাশের সামাজিক পরিবেশও বড় ভূমিকা রাখে। কেবল মানসিক চাপ কমা বা শারীরিক স্পর্শের কারণেই যে এমনটি ঘটে, তা নয়; প্রিয়জনের উপস্থিতিই শরীরকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
আরও খবর: উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে টালমাটাল ৩ বিশ্ববিদ্যালয়, সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম
যদিও গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এর মানে এই নয় যে, সঙ্গীর সঙ্গে খেলে ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ প্রতিরোধ হবে বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যাবে। এতে মূলত নির্দিষ্ট একটি পরিস্থিতিতে শরীরের তাৎক্ষণিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কেমন, তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই গবেষণাটি প্রমাণ করে শরীর সুস্থ রাখার বিষয়টি কেবল একক ব্যক্তির অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে না, চারপাশের প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্যও শারীরিক সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে।