সকালটা শুরু করুন এই ৬ অভ্যাসে, দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য
কোষ্ঠকাঠিন্য খুব পরিচিত একটি সমস্যা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যায় ভুগলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। অনিয়মিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা কিংবা শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে এ সমস্যা কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ দিনে তিনবার থেকে সপ্তাহে তিনবার পর্যন্ত মলত্যাগ করতে পারেন।
তবে সপ্তাহে এক বা দুইবার মলত্যাগ হওয়া, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হওয়া, শক্ত মল হওয়া, মলত্যাগের পরও পুরোপুরি মলত্যাগ হয়নি বলে মনে হওয়া কিংবা পায়ুপথের কাছে মল আটকে থাকার অনুভূতি হলে সেটিকে কোষ্ঠকাঠিন্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এ সমস্যার অন্যতম কারণ। ভ্রমণ, নতুন জায়গায় যাওয়া কিংবা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হলেও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ কম থাকলেও এ সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন এলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। পাশাপাশি কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কিছু রক্তচাপের ওষুধ ও ঘুমের ওষুধ কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), পরিপাকতন্ত্রে টিউমারের মতো কিছু রোগের কারণেও মলত্যাগে বাধা সৃষ্টি হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক চলন ধীর বা অস্বাভাবিক হয়ে গেলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বাঁচতে প্রতিদিন যা করবেন
সকালে পর্যাপ্ত পানি পান
দিনের শুরুতে পানি পান করার অভ্যাস শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না পেলে মল শক্ত হয়ে মলত্যাগ কঠিন হতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করা উচিত। এছাড়াও দিনের বিভিন্ন সময়ে পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হবে। তবে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পরিশ্রমের ধরন অনুযায়ী পানির প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
সকালে হাঁটাচলা করুন
ঘুম থেকে ওঠার পর হালকা হাঁটাচলা বা শরীরচর্চা করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা এড়িয়ে নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার অভ্যাস করা উচিত। শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। অফিস, পড়াশোনা কিংবা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করা যেতে পারে।
খাবারে আঁশ বাড়ান
খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার কম থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় এর পরিমাণ বাড়ানো ভালো।
মলত্যাগের চাপ আটকে রাখবেন না
মলত্যাগের চাপ অনুভূত হলে তা দীর্ঘ সময় আটকে রাখা ঠিক নয়। নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাসও গড়ে তোলা যেতে পারে। মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুন: বাংলাদেশ পুলিশে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
খাবারের সময় ঠিক রাখুন
অনিয়মিত খাবার খাওয়া ও খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন মোটামুটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও কম আঁশযুক্ত খাবারের পরিবর্তে শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
ঘুমের অভ্যাস ঠিক রাখুন
ঘুমের সময়সূচিতে পরিবর্তনও কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের পরও কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হঠাৎ করে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হলে বা মলত্যাগে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কিছু পরিপাকতন্ত্রের রোগ, এমনকি পরিপাকতন্ত্রে কোনো বাধা বা টিউমারের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
তাই নিয়মিত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, মলত্যাগের চাপ আটকে না রাখা এবং ঘুমের অভ্যাস ঠিক রাখার মতো সহজ কিছু অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।