২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৫

রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙে, কোন রোগে ভুগছেন?

রাতের ঘুমানোর পর অনেকের ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে  © এআই সৃষ্ট ছবি

রাতে ঘুমানোর পর বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যায়? অনেকেই এটিকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। তবে নিয়মিত এমন হলে এর পেছনে শুধু বেশি পানি পান নয়, ডায়াবিটিস, মূত্রথলি, কিডনি বা প্রোস্টেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করার সমস্যাকে নকচুরিয়া বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ সমস্যা বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। 

কেন হয় নকচুরিয়া?
ঘুমানোর আগে বেশি পানি পান করা, সন্ধ্যার পর চা-কফি বা অ্যালকোহল পান এবং কিছু ওষুধের কারণে রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে। আবার ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ, অতিসক্রিয় মূত্রথলি, কিডনির সমস্যা এবং পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হয়ে গেলেও রাতে বারবার প্রস্রাব হতে পারে। 

গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের পর নারীদের মধ্যেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গেও নকচুরিয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। 

রাতে কতবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সবার ক্ষেত্রে রাতে প্রস্রাবের নির্দিষ্ট ‘স্বাভাবিক’ সংখ্যা নেই। তবে নিয়মিত একাধিকবার ঘুম ভেঙে গেলে এবং এতে ঘুম বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা কিংবা জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

অন্য খবর: শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মন্ত্রণালয়ে চার নন-এমপিও শিক্ষক

সমাধানে কী করবেন?
কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তন রাতে প্রস্রাবের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে অতিরিক্ত তরল পান না করা, দিনের প্রথম ভাগে প্রয়োজনীয় পানি পান করা এবং সন্ধ্যার পর চা-কফি ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে। তবে পানি একেবারে কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। 

শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। কোনো ওষুধ খাওয়ার পর থেকে সমস্যা শুরু হলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সমস্যা নিয়মিত হলে শুধু পানি কমিয়ে দিয়ে বসে না থাকা। কারণ নকচুরিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে এর পেছনের কারণের ওপর। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা দেখে প্রস্রাবের পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। (সূত্র: এই সময়)