২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৭

প্রতিদিন কতটা চুল পড়া স্বাভাবিক? জেনে নিন প্রতিরোধের সহজ উপায়

চুল পড়া দেখে ইদানীং অনেকেই চিন্তায় পড়েন  © সংগৃহীত

​চিরুনিতেই হোক বা গোসলের সময় মেঝেতে জমা চুল দেখে ইদানীং অনেকেই চিন্তায় পড়েন। প্রতিদিন এত চুল ঝরা কি স্বাভাবিক, নাকি কোনো বড় সমস্যার লক্ষণ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া একেবারেই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে এর চেয়ে বেশি চুল ঝরতে থাকলে কিংবা মাথার চুল পাতলা হতে শুরু করলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। 

​চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ বেশি চুল পড়ার পেছনে শুধু চুলের যত্ন না নেওয়া দায়ী নয়; অনেক সময় শরীরের ভেতরের পুষ্টির অভাব বা স্বাস্থ্যগত সমস্যাও এর বড় কারণ হতে পারে।

যেসব কারণে চুল বেশি ঝরে
​মানসিক চাপ ও কম ঘুম: বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা বা মানসিক চাপ চুলের স্বাভাবিক বাড়বাড়ন্ত আটকে দেয়। দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা না ঘুমালে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা চুল দ্রুত খসিয়ে ফেলে।

​পুষ্টি ও পানির অভাব: শরীরে আয়রন, জিংক আর ভিটামিন-ডি কম থাকলে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি না খেলে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে চুল ভেঙে পড়ে।

​হরমোনের সমস্যা:  থাইরয়েড কিংবা মেয়েদের ক্ষেত্রে ‘পিসিওএস’ (PCOS)-এর মতো হরমোনজনিত রোগের কারণেও প্রচুর চুল পড়তে পারে।

​ভুল প্রসাধনী: কড়া কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু, ঘনঘন কালার করা আর নিয়ম না মেনে চলার কারণে চুলের গোড়া স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চুল পড়া বন্ধে বিশেষজ্ঞদের ৫ পরামর্শ
​১. মাথার ত্বক ম্যাসাজ: সপ্তাহে অন্তত দুদিন নারকেল তেল দিয়ে হালকা হাতে মাথার ত্বক ভালো করে ম্যাসাজ করুন।

২. খাবার তালিকায় নজর: প্রতিদিনের খাবারে ডিম, ডাল, বাদাম ও শাকসবজির মতো প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার রাখুন।

৩. হালকা শ্যাম্পু: ক্ষতিকর সালফেট ছাড়া হালকা (মাইল্ড) শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ২-৩ বারের বেশি শ্যাম্পু করবেন না।

আরও খবর: রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী ও  দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার

৪. নিয়মিত পরীক্ষা: রক্তে আয়রন ও থাইরয়েড ঠিক আছে কি না, চিকিৎসকের পরামর্শে তা পরীক্ষা করিয়ে নিন।

৫. নিয়ম মেনে চলা: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা নির্ভার ঘুম নিশ্চিত করুন এবং চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

​ভুল ধারণা ও আধুনিক চিকিৎসা
​চুল নিয়ে আমাদের সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, চুল ঘন ঘন কাটলে দ্রুত বাড়ে, যা একদমই সত্যি নয়। চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে মূলত সঠিক খাবার ও মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর।

​আবার বংশগতভাবে চুল পড়া শুরু হলে তা আর থামানো যায় না, এই ধারণাটিও এখন আর ঠিক নয়। চর্মরোগ চিকিৎসকরা জানান, ‘মিনোক্সিডিল’ নামের ওষুধ বা ‘পিআরপি (PRP)’ থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে বংশগত চুল পড়াও অনেকখানি আটকে রাখা সম্ভব। তাই চুল পড়া অস্বাভাবিক মনে হলে ঘরে বসে না থেকে শুরুতেই একজন ভালো ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।