২০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৮

প্রতিদিনের খাবারে কেন রাখবেন হলুদ?

হলুদ  © এআই সম্পাদিত ছবি

রান্নায় মসলা হিসেবে হলুদের ব্যবহার বহুদিনের। খাবারের স্বাদ ও রং বাড়ানোর পাশাপাশি হলুদের কিছু উপাদান শরীরের জন্য উপকারী বলেও মনে করা হয়। বিশেষ করে হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। তবে হলুদ কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয় এবং এর উপকার নিয়ে গবেষণার ফল সব ক্ষেত্রে সমান নয়।

প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে
হলুদের কারকিউমিনের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি জড়িত। তাই খাবারে পরিমিত হলুদ রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে
কারকিউমিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। এটি শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

হজমে সহায়তা করতে পারে
অনেকের ক্ষেত্রে মসলা হিসেবে পরিমিত হলুদ খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত হলুদ খেলে উল্টো পেটের অস্বস্তি হতে পারে।

জয়েন্টের অস্বস্তিতে কিছুটা উপকার মিলতে পারে
কিছু গবেষণায় কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে হাঁটু বা জয়েন্টের ব্যথা ও অস্বস্তি কমার সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে হলুদ বা কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা উচিত নয়।

আরও দেখুন: ছাত্রদলের বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ঢাবির নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ, ডাকসুর নিন্দা

মস্তিষ্ক ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য উপকার
কারকিউমিনের প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে মস্তিষ্ক ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে শুধু হলুদ খাওয়ার মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা যায় এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

কীভাবে খাবেন হলুদ?
দৈনন্দিন রান্নায় মসলা হিসেবে পরিমিত হলুদ ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। হলুদের সঙ্গে গোলমরিচের **পাইপেরিন** কারকিউমিনের শোষণ বাড়াতে পারে। তবে বেশি পরিমাণে হলুদ বা উচ্চমাত্রার কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কারা সতর্ক থাকবেন?
অতিরিক্ত হলুদ বা কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট সবার জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে যারা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন ওষুধ খান, পিত্তথলি বা পিত্তনালির সমস্যা রয়েছে কিংবা নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হলুদজাত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা উচিত।

হলুদকে স্বাস্থ্যকর খাবারের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে; তবে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শই সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।