তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক, সুস্থ থাকার ৮ সহজ উপায়
বয়স মাত্র ২০ বা ৩০, তাও আচমকা কেড়ে নিচ্ছে হার্ট অ্যাটাক! চিকিৎসকদের মতে, যান্ত্রিক জীবনযাপন আর অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তরুণদের মধ্যেও এখন হৃদরোগের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এ মরণফাঁদ এড়ানো সম্ভব। জীবনযাত্রায় প্রতিদিনের মাত্র ৮টি ছোট অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই সুরক্ষিত রাখা যায় হার্টকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসই নির্ধারণ করে হৃদ্যন্ত্র কতটা সুস্থ থাকবে। তাই দামি ওষুধ বা চিকিৎসার পেছনে না ছুটে জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু সচেতন পরিবর্তন আনলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
১. প্লাস্টিককে ‘না’ বলুন
খাদ্য, পানি থেকে শুরু করে বাতাসেও এখন মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক। এই কণাগুলো রক্তে মিশে শরীরের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ (Inflammation) সৃষ্টি করে, যা পরে হৃদরোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল বা প্যাকেটের ব্যবহার যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনুন।
২. পাতে রাখুন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
হৃদ্যন্ত্রকে সচল ও সুরক্ষিত রাখতে পুষ্টিকর ফ্যাটি অ্যাসিডের জুড়ি নেই। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, বাদাম ও তিসির বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি ধমনীতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।
৩. গায়ে লাগান সকালের রোদ
সূর্যালোক আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক উপায়ে ভিটামিন ডি তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ধমনীর কার্যকারিতা ঠিক রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত ১৫-২০ মিনিট সকালের মিষ্টি রোদে থাকলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
৪. পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুম কেবল ক্লান্তি দূর করে না, বরং শরীরের কোষ মেরামত এবং বিপাকপ্রক্রিয়া সচল রাখার প্রধান হাতিয়ার। দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মানসম্মত ঘুম হার্টের ওপর বাড়তি চাপ কমায়। ঘুমের নিয়মিত ঘাটতি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং হৃদ্যন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ধ্যান, ব্যায়াম বা নিজের পছন্দের কাজের মাধ্যমে চাপ কমানো জরুরি।
আরও খবর: শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ৩ আগস্টের বৈঠকের রেজুলেশনের কী হবে?
৬. ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখা
আর্দ্রতা, ছত্রাক বা দূষিত পরিবেশ শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এটি হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
শরীরের ভেতরের অবস্থা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরীক্ষা করলে প্রদাহ, কোলেস্টেরল বা পুষ্টির ঘাটতির মতো ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়।
৮. ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমানো
অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং মানসিক চাপ বাড়ে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে থাকা উচিত।