প্রতিদিন কতটি চুল পড়া স্বাভাবিক, অতিরিক্ত ঝরলে কী করবেন?
চুল পড়া এখন এতটাই বেড়েছে যে, এটি এখন বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বালিশে, গোসলের সময় কিংবা চিরুনিতে প্রতিদিনই যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়তে থাকে, তবে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও এর বেশি ঝরতে থাকলে তা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনজনিত সমস্যা থেকে শুরু করে অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে বাড়তে পারে চুল পড়া। তাই কারণ জেনে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর বেশি চুল পড়তে থাকলে তা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ বিষয়ে চিকিৎসক নোবেল জানান, দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ চুলের স্বাভাবিক গ্রোথ সাইকেলকে ব্যাহত করে। ফলে ধীরে ধীরে চুল দুর্বল হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করে। এছাড়া শরীরে আয়রন, জিঙ্ক ও ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি থাকলেও চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থাইরয়েডের সমস্যা বা নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) এর মতো হরমোনজনিত রোগও চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ। একইসঙ্গে নিম্নমানের শ্যাম্পু, অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার কালার এবং অনিয়মিত জীবনযাপন স্কাল্পের ক্ষতি করে চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়।
শুধু তাই নয়, চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘুম ও পানিরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা সরাসরি চুল ঝরার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি না খেলে স্কাল্প শুষ্ক হয়ে চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
চুল পড়া কমাতে ডা. নোবেলের ৫ পরামর্শ
১. সপ্তাহে অন্তত দুইবার নারকেল তেল দিয়ে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করা;
২. প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় ডিম, ডাল ও বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা;
আরও পড়ুন: ‘আর্লি বার্ড ডিনার’ ট্রেন্ড, রাতে তাড়াতাড়ি খাবার খেলে কি সত্যিই ভালো ঘুম হয়?
৩. সালফেট-ফ্রি মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা এবং সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বারের বেশি শ্যাম্পু না করা;
৪. নিয়মিত থাইরয়েড ও আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করা;
৫. এবং নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল নিয়ে সমাজে প্রচলিত অনেক ধারণাই ঠিক নয়। এর মধ্যে চুল কাটলে দ্রুত গজায় ধারণাটিকে তারা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, চুলের বৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে স্কাল্পের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও হরমোনের ভারসাম্যের ওপর।
এ ছাড়া বংশগত কারণে চুল পড়া বন্ধ করা যায় না এমন ধারণাও পুরোপুরি সত্য নয়। আধুনিক চিকিৎসায় বর্তমানে মিনোক্সিডিল ও পিআরপি থেরাপি-এর মতো পদ্ধতিতে জেনেটিক হেয়ার লসও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।