২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪

মা ও শিশুর সুস্থতায় গর্ভাবস্থায় কী খাবেন?

পুষ্টিকর খাবারের প্রতীকী ছবি   © এআই সম্পাদিত ছবি

প্রথমবার গর্ভধারণের সময় খাবার নিয়ে অনেক ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। তবে সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্য জটিল কোনো খাদ্যতালিকার প্রয়োজন নেই। বরং বেশি খাওয়ার চেয়ে প্রয়োজন সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম গর্ভধারণে পরিমাণের চেয়ে খাবারের মানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, শস্যজাতীয় খাবার, ফল, শাক-সবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও দুগ্ধজাত খাবারের সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। এসব খাবার মা ও শিশুর সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রোটিন শিশুর বৃদ্ধি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য ডিম, ডাল, শিম, পনির, চর্বিহীন মাংস, কম পারদযুক্ত মাছ ও দই খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।

শক্তি ধরে রাখতে ওটস, মিলেট, ব্রাউন রাইস ও হোল হুইটের মতো শস্যজাতীয় খাবার উপকারী। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে গর্ভকালীন দুর্বলতা ও ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া রঙিন ফল ও শাক-সবজি থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় আয়রন, ফোলেট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। চিকিৎসকের ভিন্ন কোনো পরামর্শ না থাকলে গর্ভবতী নারীদের প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি প্রসবপূর্ব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। কারণ শুধু খাবার থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সবসময় সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন : প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে বড় নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে সাধারণত অতিরিক্ত ক্যালোরির প্রয়োজন হয় না। তবে দ্বিতীয় তিন মাসে প্রতিদিন প্রায় ৩৪০ ক্যালোরি এবং তৃতীয় তিন মাসে প্রায় ৪৫০ ক্যালোরি অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি, যা শিশুর হাড়ের গঠনে সহায়তা করে; ভিটামিন বি৬, যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে; ভিটামিন বি১২, যা শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে প্রয়োজনীয়। এছাড়া ফলিক অ্যাসিড শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সহায়ক।

যারা নিরামিষভোজী বা ভেগান খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন, তাদের আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি১২ গ্রহণের বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে গর্ভাবস্থার সময় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। বি:দ্র: গর্ভাবস্থায় সঠিক ডায়েট, পানীয় ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই গাইনোকোলজিস্ট বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।