২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে মসলার গুণাগুণ

বিভিন্ন প্রকারের মসলা  © এআই সম্পাদিত ছবি

রান্নায় স্বাদ, রং ও সুগন্ধ বাড়াতে মসলার ব্যবহার বহু পুরোনো। তবে শুধু খাবারের স্বাদই নয়, কিছু মসলা হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মসলা উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু মসলা খাদ্যতালিকায় রাখলে তা কোলেস্টেরলের মাত্রা, প্রদাহ এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কারেন্ট কার্ডিওলজি রিভিউস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু মসলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিদজাত সক্রিয় যৌগ প্রদাহ কমাতে, বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে এবং রক্তনালীকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। গবেষণায় রসুন, হলুদ, দারুচিনি, আদা, মেথি ও গোলমরিচের সম্ভাব্য উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রসুন
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে এমন মসলার মধ্যে রসুন অন্যতম। এতে থাকা অ্যালিসিনসহ সালফারজাতীয় যৌগ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। জার্নাল অব হেলথ, পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খাওয়া কিছু মানুষের মোট কোলেস্টেরল ও এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

হলুদ
হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। প্রদাহ কমানোর মাধ্যমে এটি হৃদযন্ত্রের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। *কমপ্লিমেন্টারি থেরাপিস ইন মেডিসিন* জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় কারকিউমিনের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সীমিত ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দারুচিনি
মিষ্টি ও ঝাল দুই ধরনের খাবারেই ব্যবহৃত দারুচিনির প্রাকৃতিক উপাদান রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণার ফল একরকম নয়, তাই কেবল দারুচিনির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

আদা
আদায় থাকা জিঞ্জেরল ও শোগাওল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহবিরোধী উপাদান হিসেবে পরিচিত। কয়েকটি গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আদা কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করতে, প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন : পেটের সুস্থতায় খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ খাবার

মেথি
মেথি দ্রবণীয় আঁশের ভালো উৎস, যা পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। *ফাইটোমেডিসিন প্লাস* জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেথি এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।

গোলমরিচ
গোলমরিচে থাকা পাইপেরিন হলুদের কারকিউমিনসহ কিছু পুষ্টি উপাদানের শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও এটি একাই কোলেস্টেরল উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম এমন প্রমাণ নেই, তবে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য হৃদযন্ত্রের সার্বিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত লবণের পরিবর্তে সদ্য গুঁড়া করা গোলমরিচ ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেও সহায়ক হয়।