০৪ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫৫

চুলের যত্নে তিসিবীজ কতটা কার্যকর? জেনে নিন পুষ্টিগুণ ও ব্যবহারবিধি

তিসিবীজ বা ফ্ল্যাক্স সিড  © সংগৃহীত

ছোট্ট তিসিবীজকে অনেকে পুষ্টির ভান্ডার হিসেবে অভিহিত করেন। প্রোটিন, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আঁশ ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই বীজ শতাব্দী ধরে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে চুলের যত্নেও তিসিবীজ ও তিসির তেলের ব্যবহার নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

অনেকেই মনে করেন, তিসিবীজ বা ফ্ল্যাক্স সিড নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল হয় লম্বা, ঘন ও মজবুত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কিছু উপকারিতা থাকলেও এটি একমাত্র সমাধান নয়।

তিসিবীজে রয়েছে প্রোটিন, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড), ভিটামিন বি, ভিটামিন ই, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং পরোক্ষভাবে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের কোষ ও মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ভিটামিন বি ও ই চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে সহায়তা করতে পারে।

চুলে কীভাবে ব্যবহার করা যায়?
চুলের যত্নে তিসিবীজ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়— তিসির তেল সরাসরি মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ১৫–২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলা যায়, তিসি জেল শ্যাম্পুর আগে চুলে ব্যবহার করা যায়। আবার খাদ্য হিসেবেও গুঁড়া তিসিবীজ ওটমিল, সালাদ বা বিভিন্ন খাবারে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

আরও পড়ুন : ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’: কাতারের উপহার বিলাসবহুল উড়োজাহাজটিতে থাকছে যেসব সুবিধা

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আস্ত বা অপরিশোধিত বীজ সরাসরি খাওয়া বা ব্যবহার করা উচিত নয়। তিসিবীজ ও তিসির তেল প্রাকৃতিক হলেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন—গ্যাস, পেটফাঁপা বা ডায়রিয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া, গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি। তাই নিয়মিত ব্যবহার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিসিবীজ চুলের জন্য সহায়ক হতে পারে, তবে এটি কোনো ম্যাজিক ট্রিটমেন্ট নয়। স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত চুলের যত্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিসিবীজ ও তিসির তেল দুটোই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উপাদান। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তবে একক সমাধান হিসেবে নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই একে গ্রহণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।