০১ জুলাই ২০২৬, ১৪:১১

রান্নাঘরের ৯ মসলা, উপকারের পাশাপাশি জেনে নিন লুকিয়ে থাকা ঝুঁকি

রান্নার প্রয়োজনীয় ৯ মসলা  © টিডিসি সম্পাদিত

মশলা ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর অসম্পূর্ণ। বিভিন্ন পদের মসলা ব্যবহারে রান্নার স্বাদ অনেকটা বাড়ে। এ ছাড়া এসবের বিভিন্ন ঔষধি গুণও রয়েছে। তবে অতিরিক্ত মসলা ব্যবহার করলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ভালো জিনিসই অতিরিক্ত ভালো নয়। এসবে উপকার থাকলেও অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিটি মসলার উপকারিতার পাশাপাশি এর নিরাপদ ব্যবহার ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি।

১. আদা
হজমশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি বমি বমি ভাব দূর করা, প্রদাহ ও পেশির ব্যথা কমানোর জন্য আদা অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা জিঞ্জারল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। তবে প্রয়োজনের বেশি আদা খেলে বুকজ্বালা, ডায়রিয়া, মুখে জ্বালাপোড়া ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে।

যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান বা সম্প্রতি অস্ত্রোপচার করিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আদা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই দিনে ৬ গ্রামের বেশি আদা না খাওয়াই ভালো।

২. হলুদ
হলুদের কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান। এটি ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও হলুদের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। তবে অতিরিক্ত হলুদ বা কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্যাস, অম্বল, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি লিভার ও কিডনির সমস্যার কারণও হতে পারে। তাই দিনে ৩ গ্রামের বেশি হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।

৩. লবঙ্গ
লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ম্যাঙ্গানিজ ও ভিটামিন কে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক। ঠান্ডা-কাশি বা গলাব্যথায়ও উপকারী। তবে অতিরিক্ত লবঙ্গ রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। তাই বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লবঙ্গ গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। দিনে ২ থেকে ৪টির বেশি লবঙ্গ না খাওয়াই নিরাপদ।

৪. দারুচিনি
দারুচিনি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত দারুচিনি খেলে মুখে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি, ঘা এবং দীর্ঘদিন বেশি খেলে কিডনির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিদিন ২ থেকে ৪ গ্রামের বেশি দারুচিনি না খাওয়াই ভালো।

৫. জয়ফল
জয়ফলে রয়েছে ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, কপার ও ভিটামিন বি-৬। এটি হজমে সহায়তা করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ভালো ঘুম আনতেও ভূমিকা রাখে। তবে অতিরিক্ত জয়ফল খেলে মাথা ঘোরা, উদ্বেগ, বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন আচরণ এমনকি খিঁচুনির মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এটি অল্প পরিমাণেই ব্যবহার করা উচিত।

৬. তেজপাতা
তেজপাতা পেটফাঁপা কমাতে বেশ কার্যকর। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতেও ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনকারীদের ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত গ্রহণ না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: দুপুরের ছোট্ট ভাত ঘুমে বাড়ে কর্মক্ষমতা, কমে মানসিক চাপ

৭. গোলমরিচ
গোলমরিচে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’, ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি হজমেও সহায়ক এবং সর্দি-কাশি উপশমে কার্যকর। তবে অতিরিক্ত গোলমরিচ খেলে অম্বল, বমিভাব, পেটের অস্বস্তি বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। কিছু ওষুধের কার্যকারিতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

৮. রসুন
রসুনে থাকা অ্যালিসিন খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও। তবে অতিরিক্ত রসুন খেলে অ্যাসিডিটি, অম্বল ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতে পারে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান বা নিম্ন রক্তচাপে ভোগেন, তাদের রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

৯. মৌরি
মৌরি হজমে সহায়তা করে, অম্বল ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান পেটের বিভিন্ন সমস্যা কমাতেও ভূমিকা রাখে। তবে অতিরিক্ত মৌরি বা মৌরির তেল খেলে বমিভাব, অম্বল ও পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারীদেরও অতিরিক্ত মৌরি খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মসলা খাওয়া বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে এগুলো সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। (সূত্র: আনন্দবাজার)