২৫ জুন ২০২৬, ১৬:০৪

দুপুরে ভাত খেয়েই চোখে ঘুম? অফিসে বসেই সতেজ থাকার জাদুকরী উপায়

অফিসে সতেজ থাকার উপায়  © এআই সম্পাদিত

দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর মানুষের শরীরে ক্লান্তি চলে আসে। তারওপর দুপুরের খাবার শেষ করে অফিসের ডেস্কে ফিরতেই কাজের টেবিলে বসে হাই তোলা, চোখে ঘুম, কাজে অনীহা কিংবা মনোযোগের ঘাটতি এ অভিজ্ঞতা অনেক চাকরিজীবীর কাছেই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, রিপোর্ট বা ডেডলাইনের মাঝেও দুপুরের পর ক্লান্তি উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুপুরের খাবারের পর কিছুটা ঝিমুনি বা ঘুমঘুম ভাব আসা স্বাভাবিক। কারণ খাবার হজমের সময় শরীরের শক্তির একটি অংশ পরিপাকক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি শরীরের জৈবঘড়ির (বডি ক্লক) কারণেও দুপুরের দিকে অনেকের কিছুটা তন্দ্রাভাব দেখা দেয়। তবে কয়েকটি অভ্যাস বদলালে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কেন আসে ঘুম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরে অতিরিক্ত ভাত, তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করতে পারে। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব বাড়তে পারে। এছাড়া রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, দীর্ঘক্ষণ একটানা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান না করাও এর অন্যতম কারণ।

অফিসে বসেই সতেজ থাকার উপায়
পরিমিত খাবার খান: দুপুরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেলে শরীর আরও বেশি ক্লান্ত অনুভব করতে পারে। তাই একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

পানি পান বাড়ান: অনেক সময় শরীরে পানির ঘাটতিও ক্লান্তির কারণ হয়। দুপুরের খাবারের পর এক বা দুই গ্লাস পানি পান করলে কিছুটা সতেজ অনুভূত হতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না: অফিসে হাঁটার সুযোগ না থাকলেও প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো, ফাইল নিতে যাওয়া বা কয়েক মিনিট শরীর নড়াচড়া করা উপকারী হতে পারে।

ডেস্কে বসেই স্ট্রেচিং: ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে টান ধরলে শরীর আরও ক্লান্ত লাগে। তাই কয়েক মিনিটের হালকা স্ট্রেচিং শরীরকে আরাম দিতে পারে।

সহজ কাজ দিয়ে শুরু করুন: খাওয়ার পরপরই জটিল বা অধিক মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজ শুরু না করে ই-মেইল দেখা, নথিপত্র গোছানো বা তুলনামূলক সহজ কাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন। এতে ধীরে ধীরে মনোযোগ ফিরে আসে।

চোখকে বিশ্রাম দিন: দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে ক্লান্তি বাড়ে। কয়েক মিনিট দূরের কোনো বস্তু বা জানালার বাইরের দিকে তাকালে চোখ ও মস্তিষ্ক কিছুটা বিশ্রাম পায়।

আরও পড়ুন : সকালের নাশতায় তিসি, স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে যা জানা জরুরি

চা-কফি কি সমাধান?
অনেকেই ঘুম তাড়াতে বারবার চা বা কফি পান করেন। চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতেজতা বাড়াতে পারে। তবে অতিরিক্ত চা-কফি রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা পরদিন আরও বেশি ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

রাতের ঘুমই মূল চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দিনের ক্লান্তি কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো রাতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা। নিয়মিত কম ঘুম হলে দুপুরের পর তন্দ্রাভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। কর্মব্যস্ত জীবনে দুপুরের পর কিছুটা ঝিমুনি আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা নড়াচড়া এবং ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে অফিসে বসেই নিজেকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।