২৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৯

কফি পান করছেন? স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত এই ৫ উপাদান হতে পারে ক্ষতির কারণ

কফিতে যে ৫ উপাদান মেশালে হতে পারে স্বাস্থ্যঝুকি  © সংগৃহীত

ঘুম দূর করা হোক বা ক্লান্তি কাটানো এক কাপ গরম কফি যেন মুহূর্তেই শরীর চাঙ্গা করে দেয়। আবার গরমে ঠান্ডা কফিও এনে দেয় আরাম। কফিতে থাকা ক্যাফেইন স্নায়ুকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও পরিমিত কফি পান ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে সারা বিশ্বে ৬০ কেজি ওজনের কফির ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল ৯ কোটি। বর্তমানে শহরকেন্দ্রিক সমাজ ব্যবস্থায় কফি নিয়ে যতটা হইচই এবং আলোচনা হয়ে থাকে, তা আগে কখনো ছিল না বললেই চলে। প্রতিদিনের কাজ শুরু করার আগে, দুপুরের লাঞ্চের পর অথবা অলস বিকেলে অনেকটা অভ্যাসবশতই কফি পান করার চল অনেকের মধ্যেই রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি নিজে নয়, বরং এতে মেশানো কিছু উপাদানই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। নিয়মিত কফি পানকারীদের তাই কিছু বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত।

ঘন দুধ ও চিনি (ক্যাপুচিনো ধরনের কফি) : ঘন দুধ ও চিনির মিশ্রণে তৈরি কফি অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু এতে থাকা অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য চিনি এড়িয়ে চলা জরুরি। দুধ ও চিনির মিশ্রণ অনেক সময় অম্বলের কারণও হতে পারে।

মাখন মেশানো কফি: কফিতে মাখন মিশিয়ে পান করার চলও রয়েছে। এতে স্বাদ বাড়লেও অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এই ধরনের কফি ক্ষতিকর হতে পারে।

কনডেন্সড মিল্ক : কফিতে কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে ঠিকই, কিন্তু এতে প্রচুর চিনি ও ক্যালোরি থাকে। নিয়মিত এভাবে কফি পান করলে অম্বল, বদহজম এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে।

ক্রিম : ক্রিম কফির স্বাদ বাড়ালেও এতে উচ্চমাত্রার ফ্যাট থাকে। হজমের সমস্যা থাকলে এটি ক্ষতিকর হতে পারে। পাশাপাশি স্থূলতার সমস্যায় ভুগছেন যারা, তাদের জন্যও ক্রিমযুক্ত কফি অনুপযুক্ত।

মার্শমেলো: কফিতে মার্শমেলো যোগ করার প্রবণতাও দেখা যায়। এটি স্বাদ বাড়ালেও অতিরিক্ত মিষ্টি ও ক্যালোরি যোগ করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

আও পড়ুন : শরীর দিচ্ছে নীরব সংকেত: পুরুষদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এই ৫ লক্ষণ

কীভাবে কফি পান করা ভালো: বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ-চিনি ছাড়া কফি পান করাই সবচেয়ে ভালো। দিনে ২-৩ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে অনিদ্রা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, উদ্বেগ এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কফিতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে তা দ্রুত ক্যালোরি বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সম্ভব হলে চিনি ছাড়া কফি পান করা সবচেয়ে ভালো। দুধযুক্ত কফি খেতে চাইলে লো-ফ্যাট দুধ, ওটস দুধ বা কাঠবাদামের দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হজমে তুলনামূলকভাবে সহজ এবং ক্যালোরিও কম।

খালি পেটে কফি খাওয়া উচিত না। খালি পেটে কফি পান করলে অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই হালকা খাবারের পর কফি পান করাই ভালো। সাধারণত সকালে বা দুপুরের আগে কফি পান করলে এটি বেশি কার্যকর হয়। বিকেল বা রাতের দিকে কফি পান করলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। 

অতিরিক্ত ফ্লেভারিং বা প্রক্রিয়াজাত ইনস্ট্যান্ট কফির বদলে ভালো মানের গ্রাউন্ড কফি বা অরগানিক কফি বেছে নিলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকার বেশি পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে কখন ও কোন উপাদান মিশিয়ে কফি পান করলে সর্বোত্তম উপকার পাওয়া যাবে সেবিষয়ে কোনো স্বীকৃত পুষ্টিবিদ বা খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত।