১৭ মে ২০২৬, ১১:৫৯

লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৬ খাবার

লিভারের জন্য ক্ষতিকর কিছু খাবার  © এআই সৃষ্ট ছবি

মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি লিভার। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, হজমে সহায়তা, শক্তি সঞ্চয়, রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সচল রাখার মতো অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গটি। তবে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার ও অ্যালকোহল গ্রহণের কারণে বর্তমানে লিভারজনিত রোগ বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৯ লাখ মানুষ মারা যায় লিভার ক্যান্সারে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ রোগই সম্পর্কিত থাকে অস্বাস্থ্যকর রান্নার অভ্যাস ও পুনরায় গরম করা খাবারের সঙ্গে। যেসব খাবারে লিভার ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে-

১. অ্যালকোহল
লিভারের জন্য ক্ষতিকর খাবারের তালিকায় অ্যালকোহল প্রথম স্থানে রয়েছে। যখন আমাদের লিভার অ্যালকোহল ভেঙে ফেলে, ফলস্বরূপ রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তার কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যার ফলে দাগ এবং প্রদাহ হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মদ্যপান সঠিক পুষ্টির শোষণে বাধা দেয়, লিভারকে আরও স্ট্রেন করে।

২. চিনিযুক্ত খাবার
আমাদের লিভার চিনিকে চর্বিতে রূপান্তরিত করে এবং আমাদের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি সঞ্চয়ের ফলে নন অ্যালকোহলযুক্ত ফ্যাটি লিভার রোগ হতে পারে।

৩. চর্বিযুক্ত খাবার
পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার এবং অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা সময়ের সাথে সাথে লিভারের ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এটি পরবর্তীতে সিরোসিসের দিকে পরিচালিত করে এবং লিভারের কাজ করা কঠিন করে তোলে। চর্বিযুক্ত খাবারও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়।

৪. লাল মাংস
লাল মাংস প্রোটিন সমৃদ্ধ হতে পারে, তবে লিভারকেও ট্যাক্স করতে পারে। কারণ এটি এই প্রোটিনকে সহজে ভেঙে দিতে পারে না। অতিরিক্ত পরিমাণে লাল মাংস খাওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে।

আরও পড়ুন: লিভার সিরোসিস থেকে ক্যান্সার—তবুও আমাদের দৌঁড় থামছে না

৫. চিনিযুক্ত ফলের রস
গরমের সময় একটু ঠান্ডা মিষ্টি জাতীয় কিছু হলেই আমরা কোনো কিছু না ভেবেই তৃপ্তি সহকারে পান করি। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো স্বাস্থ্যকর পানীয়, কিন্তু বাস্তবে এটি মূলত চিনি দিয়ে তৈরি এক ধরনের তরল, যেখানে পুরো ফলে থাকা আঁশ থাকে না। 

ফলের রস নিয়মিত খাওয়া মানে লিভারে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ ঢুকছে, যা লিভারে চর্বি জমা ও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এটি আস্তে আস্তে লিভারের বড় ক্ষতি করতে পারে।

৬. অতিরিক্ত লবণ
লবণের অতিরিক্ত ব্যবহারে শরীরে পানি জমে যায় এবং লিভারে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এতে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে লিভার ফেলিওরের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত লবণ পরিহার করা উচিত।

লিভার আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। আমাদের সুস্থতার জন্য একটি সুস্থ লিভার অপরিহার্য। (সূত্র: অ্যাপোলো হাসপাতাল)।