যৌনবাহিত রোগ সিফিলিস, চিকিৎসা না নিলে প্রাণঘাতী হওয়ার ঝুঁকি
যৌনবাহিত যেসব রোগ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম সিফিলিস। এটি এমন একটি রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা না নিলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তবে যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসায় এ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য বলে জানিয়েছে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।
সিফিলিস কী?
সিফিলিস মূলত যৌনবাহিত একটি জটিল সংক্রমণ, যা ট্রেপোনেমা প্যালিডাম নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত কিংবা অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের কারণে ছড়ায়।
ধাপে ধাপে বাড়ে জটিলতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিফিলিস একাধিক ধাপে শরীরে প্রভাব ফেলে-প্রাথমিক, সেকেন্ডারি, ল্যাটেন্ট ও টারশিয়ারি। প্রথম পর্যায়ে শরীরের সংক্রমিত স্থানে ছোট, ব্যথাহীন ঘা দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না। দ্বিতীয় ধাপে ত্বকে র্যাশ, জ্বর, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দেয়।
চিকিৎসা না নিলে রোগটি লুকানো (ল্যাটেন্ট) পর্যায়ে চলে যায়, যেখানে কোনো উপসর্গ থাকে না, কিন্তু সংক্রমণ শরীরে সক্রিয় থাকে। দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকলে তা টারশিয়ারি পর্যায়ে গিয়ে হৃদ্যন্ত্র, রক্তনালী, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
সিডিসি জানায়, চিকিৎসাহীন অবস্থায় সিফিলিস মস্তিষ্ক, চোখ বা কানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, এমনকি কম শোনার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কীভাবে ছড়ায়
সিফিলিস মূলত সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত ঘায়ের সরাসরি সংস্পর্শে এলেই এই রোগ ছড়াতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী মা থেকে শিশুর শরীরেও এটি ছড়াতে পারে, যা জন্মগত সিফিলিস নামে পরিচিত। তবে দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস যেমন টয়লেট সিট, দরজার হাতল বা কাপড়-চোপড় থেকে এ রোগ ছড়ায় না।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যৌন সম্পর্কে আছেন, এমন যে কেউ সিফিলিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে যাদের একাধিক সঙ্গী আছে, অথবা অসুরক্ষিত যৌন আচরণ রয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া এ সংক্রমণ থাকলে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: বাবা নেই, মা বিদেশে—৯৯৯-এ ফোন পেয়ে স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করল পুলিশ
প্রতিরোধ ও সচেতনতা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিফিলিস থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলাই একমাত্র উপায়। তবে যারা যৌনভাবে সক্রিয়, তাদের জন্য- নিয়মিত কনডম ব্যবহার, একাধিক সঙ্গী এড়িয়ে চলা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এসব ব্যবস্থা ঝুঁকি কমাতে পারে।
গর্ভবতীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় সিফিলিস থাকলে তা শিশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে। অকাল প্রসব, মৃত শিশু জন্ম কিংবা গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের অন্তত একবার সিফিলিস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিফিলিস অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য হলেও চিকিৎসার পরও পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই চিকিৎসার পরেও ফলোআপ পরীক্ষা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা বা ভয় না পেয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করাই সিফিলিস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।