১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৯

শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে আজ ২১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়ে দেশের ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষককে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আজকের দিনটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এই দিন আমাদের দেশমাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি। এই দিনটি এমন একটি দিন, যেদিন হাজারো কোটি টাকা খরচ করে দিনটি উদযাপন করা হতো। আর আজকে এই দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজ সারা দেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে তাদের অংশভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তাই জাতির ইতিহাসে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ডের প্রোগ্রামে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আরও কয়েকটি কাজ আমরা করতে পারিনি। সেজন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩১ জায়গায় ৩২, ৩৩ করেছেন। আমাদের আরও দুটি কাজ বাদ পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি হচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ। এটা আমরা শেষ করতে পারিনি। আমরা পারিনি তার প্রিয় বিষয়, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে যে কারিগরি শিক্ষার ফেয়ার এবং সেখানে যা করেছি, সেগুলো তার সময়ের অভাবে করতে পারিনি। আশা করি, তিনি ১৮০ দিনের প্রোগ্রামে এগুলো নিয়ে যাবেন। আজকে এই শিক্ষাখাতে, এই কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতার সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা করে দিচ্ছি। বাকি টাকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছেন এবং বিভিন্ন রকম সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখছেন।’

আরও পড়ুন: হয়রানি ছাড়াই শিক্ষকদের অর্থ দিতে ইএফটি-আইবাস প্লাস: মাহদী আমিন

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিগত সরকার এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যেটা সেলিম ভূঁইয়া সাহেব বলেছেন। ইতিমধ্যে তারা ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা যে ব্যাংকগুলোতে দিয়েছে, সেই ব্যাংকগুলোর নাম আমি আপনাদের বলছি না। আটটি ব্যাংকে এই টাকাগুলো দিয়েছে, যেখান থেকে আমরা টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এছাড়াও সরকারি ব্যাংকে আমাদের কিছু টাকা রয়েছে। সেগুলো আমরা পেতে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে আমাদের এই ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ যে অনুদান আপনারা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী যে বন্ড কেনার টাকা দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে মোট আমাদের ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ডের সম্পদ রয়েছে। এই আয় দিয়ে আজকে যে যাত্রা আমরা শুরু করলাম, ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধা কল্যাণ ট্রাস্ট অ্যান্ড অফসার ভাতা তারপর আগামী বছরে আমরা ক্রমান্বয়ে আপনাদের বাকি সকল টাকা পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ।’

শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, আমাদের সময়ে একজন শিক্ষক তার সারা জীবনের সুন্দর সময়টি শিক্ষা দিয়ে যখন বাড়ি ফিরতেন, তখন আমরা একটি ফেয়ারওয়েল দিতাম। একটি মানপত্র পড়তাম। মুসলমান হলে একটি টুপি, একটি পাঞ্জাবি, একটি ছাতা, একটি লাঠি এবং একদিন কোরআন শরিফ ও একজোড়া তসবিহ দিয়ে তাদের বিদায় করতাম।’

তিনি বলেন, ‘যে শিক্ষকরা জাতি গঠনে সাহায্য করেছেন, তাদের এভাবে বিদায় দেওয়া যায় না। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী প্রথম কল্যাণ ট্রাস্টে ১৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ৮৯ কোটি টাকা দিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। এই যাত্রা শিক্ষকদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তাই আজকের এই দিনে আমরা স্মরণ করব আমাদের দেশনেতা বেগম খালেদা জিয়াকে। আমরা স্মরণ করব শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি এই বেসরকারি শিক্ষকদের শতকরা ৫০ ভাগ বেতন দিয়ে এই সিস্টেম চালু করেছিলেন। শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া শুরু করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে এই শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া চলতেই থাকবে, চলবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আমরা চাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আগামী দিনে যা যা করণীয় রয়েছে, এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য আমরা সেদিকে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’