সরকারি বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা
নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না। গ্রেডভেদে বাড়ানোর হার কিছুটা কমবেশি হতে পারে। নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুধু মূল বেতন বাড়ানো হতে পারে। পরের বছর বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে নবম পে-স্কেলের এই প্রস্তাব।
বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির শেষ বৈঠকে বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সব সদস্য সই করেছেন। নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।
ওই সদস্য বলেন, আগামী দুই বছরে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে এতে পরিবর্তন আনতে পারবে। এখন অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করবে। সরকারের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উঠছে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। এ-সংক্রান্ত কমিটি ইতিমধ্যে খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি গতকালের বৈঠকে প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন কার্যকর ধরা হবে। ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়ন ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিবদের কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘তবে কত ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে, তা মন্ত্রিসভাই চূড়ান্ত করবে।’ অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও একই কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: দুই বছরে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব সচিব কমিটির, কয় ধাপে-সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়
অর্থ বিভাগ গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নবম পে-স্কেল সম্পর্কে অবহিত করে। এ বিষয়ে আলোচনার ভিত্তিতেই প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ দুই সরকারি কর্মকর্তা।
ওই ব্রিফিং-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈঠকে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের প্রথম ধাপেই ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে একবারে ১০০ শতাংশ বাড়ানো উচিত। উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন প্রাথমিকভাবে না বাড়ালেও আমি কোনো সমস্যা দেখি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীরা বেতনের পাশাপাশি অনেক সুযোগ-সুবিধা পান। কিন্তু নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা চরম দুর্দশায় রয়েছেন। বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত।’
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ চার মাস পর্যালোচনার পর গতকাল কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে।
তবে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে। কারণ, গত বৃহস্পতিবার জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। ফলে সচিব কমিটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করলেও মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির কার্যক্রমের কারণে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ বরাদ্দের পরিমাণ এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।