২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫

নবম পে স্কেলের অর্থ সংস্থান নিয়ে চ্যালেঞ্জে সরকার, সমাধান হতে পারে যেভাবে

নবম জাতীয় পে-স্কেল  © ফাইল ছবি

পাঁচ বছর পরপর দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। তবে গত ১০ বছরে তা মানা হয়নি। ফলে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এর অর্থ সংস্থান চ্যালেঞ্জিং হলেও একাধিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা অন্তত সাড়ে ১৪ লাখ। নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তাদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ এর পরিমাণ এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। 

বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়তি এ ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের আয় সেভাবে বাড়ছে না। ফলে নতুন বাজেটে যে বিপুল অর্থের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, সেটা মেটাতেই দেশে-বিদেশে ঋণের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে সরকারের। বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হলে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

এদিকে দেশি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা। দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে বলে বিএনপি সরকারও স্বীকার করছে। তারপরও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে চান বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে এবং সে অনুযায়ীই রিভিউ করা হয়েছে। তবে বেতন-ভাতা একবারে না বাড়িয়ে দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রথমেই বেসিক বা মূল বাড়ানো হবে। আর পরে ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

আরও পড়ুন: মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: কী ঘটেছিল সেদিন, কেন এত প্রাণহানি?

এর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলসহ অর্থনীতির চারটি ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় বেতন কাঠামো কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের পৃথক বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আলোচনা চললেও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এটি কার্যকর করার বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম। বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি সরকারের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। 

আইএমএফের মতে, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ অবস্থায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হবে। এতে ভোগব্যয় বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়াবে। এসব বিবেচনায় পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।