২৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৭

চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালু করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ও লিউ হাইশিং   © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশটির ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ করতে শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সম্মেলনে চীনের ১২৫ জন ব্যবসায়ী অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নীতিগত সুবিধা এবং বিভিন্ন খাতের সুযোগ তুলে ধরে বিশেষ উপস্থাপনা করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী। চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাদের বৈশ্বিক ভ্যালুচেইন সম্প্রসারণ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।’

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও পুঁজি প্রবাহ-সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ পরিকল্পনার আওতায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর, নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠককালে বিএনপি ও সিপিসির নেতাকর্মীরা

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ করতে শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করা হবে।’

আরও পড়ুন : বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে পুঁজিবাজারবিষয়ক কর্মশালা, অংশ নিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সম্মেলনে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।