২৫ জুন ২০২৬, ১০:২৪

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে লিউ হাইশিং এর সৌজন্য সাক্ষাৎ   © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের রাজনৈতিক ও জনগণের পর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান লিউ হাইশিং। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নয়বার চীন সফর করেছেন এবং ২০০১ সালে তার এক সফরের একটি আলোকচিত্র বর্তমানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

লিউ হাইশিং সম্প্রতি বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিএনপি ও সিপিসির নেতাকর্মীরা

তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে বেইজিং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে লিউ হাইশিং বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে পুঁজিবাজারবিষয়ক কর্মশালা, অংশ নিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইইয়ান, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বৈঠক। একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই পক্ষের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।