২১ জুন ২০২৬, ১০:৩০

‘গাছের সঙ্গে ঝুলাবো, আপনারা পেটাবেন’ বলা সেই অতিরিক্ত কমিশনার প্রত্যাহার

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান  © টিডিসি সম্পাদিত

খুলনায় অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য ফাঁস হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পেটানোর’ মন্তব্য করে আলোচনায় আসা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বেফাঁস ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) পুলিশ সদরদপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখা-১ এর অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ২১ জুন বর্তমান কর্মস্থল থেকে পুলিশ সদরদপ্তরে রিপোর্ট করতে হবে।

এর আগে গত ১৭ জুন খুলনা মহানগরের লবণচরা থানা এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন রাশিদুল ইসলাম খান। সভায় তিনি অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে স্থানীয়দের উৎসাহিত করেন এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দেন। এ সময় দেওয়া তার ২৫ সেকেন্ডের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো ইনফরমেশন যদি পাস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলায় দেব, আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।’

আরও পড়ুন: রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ১০

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ সময়ে এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে অন্তত ৮৯ জন নিহত হয়েছেন এবং গুলি ও কুপিয়ে আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জীবনের নিরাপত্তার শঙ্কায় তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে সাহস পান না। অনেকের ধারণা, পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য দ্রুত অপরাধীদের কাছেও পৌঁছে যায়। ফলে পুলিশের একাধিক অভিযান পরিচালিত হলেও অনেক অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এই পরিস্থিতিতে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতেই বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় সভা আয়োজন করে পুলিশ।

ওই সভায় উপস্থিত এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় ঘরে ঘরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রয়েছে। পুলিশের ভেতরেও সন্ত্রাসীদের লোকজন থাকায় সাধারণ মানুষ তথ্য দিতে ভয় পায়। সভায় উপস্থিত লোকজন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তথ্য দেওয়ার পর তা সন্ত্রাসীদের কাছেই পৌঁছে যায়। তাই তথ্য চাওয়ার আগে পুলিশের নিজেদের সংশোধনের পরামর্শ দেন তারা। জনগণের এই ক্ষোভ ও অভিযোগের প্রেক্ষিতেই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওই কঠোর মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান উপস্থিত ব্যক্তিরা।

ভাইরাল বক্তব্যের বিষয়ে পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন রাশিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। তবে জনগণের বড় অভিযোগ ছিল মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেই ভয় দূর করতে এবং মানুষকে আশ্বস্ত করতেই তিনি কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পুরো বক্তব্য না দেখিয়ে একটি অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।