২৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৯

প্রতিমন্ত্রী নুরের নির্দেশে তিন কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর  © ফাইল ছবি

মৃত প্রবাসী কর্মীর পরিবারের আর্থিক অনুদান মঞ্জুরির বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দুই কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) বোর্ডের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাছাড়া ঋণ দেয়ার কথা বলে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের একজন পিয়নকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীরা হলেন- ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরী মো. শফি উদ্দিন, অফিস সহায়ক পলাশ চন্দ্র রায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী কর্মী মো. কাইয়ুম (বাবা মৃত মো. হাফিজ উদ্দিন, গ্রাম পাতলাশী, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ) এর পরিবারের অনুকূলে মৃত্যুর কারণে আর্থিক অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুই কর্মচারী ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম ভুক্তভোগীকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণ করেন। 

এসব বিষয়ে সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসাইন ও ভুক্তভোগী পরিবার সুনির্দিষ্ট ভিডিও প্রমাণসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ও অভিযোগকারীদের নিয়ে অভিযুক্তদের দপ্তরে যান, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। 

আরও পড়ুন: ছাত্রদলের তিন নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিল সরকার

আরও বলা হয়েছে, কর্মচারীদের এমন আচরণ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সুনাম ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তা শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। তাই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নিজ নিজ বিধি অনুযায়ী ২৩ মে থেকে তাদের চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে প্রচলিত বিধি মোতাবেক তারা খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের সেবা প্রদানে দেশে এবং  দূতাবাসে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। প্রবাসীদের সহযোগিতায় কোন গাফিলতি ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও তিনি সতর্ক করেন।