মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের করণীয় কী, প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন কীভাবে?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিভিন্ন তথ্যের গরমিল থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব প্রার্থীর মনোয়ন ফিরে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে জন্য নির্ধারিত নিয়মে আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে আপিল করতে হবে তাদের।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই চলবে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ কোন প্রার্থী বা কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোন সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা প্রার্থী কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আগামী ৫ জানুয়ারি হতে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল দায়ের করতে পারবেন।
সেক্ষেত্রে নিম্নরূপভাবে আপিল দায়ের করতে হবে। মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল-
● আপিল আবেদন কমিশন সচিবালয়ের সচিবের নিকট নির্ধারিত ফরমেটে দায়ের করতে হবে।
● আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।
● আপিল আবেদনের একটি মূলকপিসহ সর্বমোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে।
● আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: দুই কারণে এনসিপি থেকে পদত্যাগ দেড় ডজন নেতার, পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?
● আপিল আবেদন ৫ জানুয়ারি হতে ০৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে দাখিল করতে হবে।
● আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপি প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত ফরম-এ আবেদন দাখিল করতে হবে। উক্ত ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ হতে সংগ্রহ করা যাবে।
● আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল নিষ্পত্তি
মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আপিলসমূহ মাননীয় নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ জানুয়ারি হতে ১৮ জানুয়ারি তারিখের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসরণ
সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি এবং সরকারী সুবিধাভোগী অতি গুরূত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করতে হবে। আচরণবিধি মেনে সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তা করার আহবান জানিয়েছে কমিশন।