১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬

আনচেলত্তিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের খোঁচা—‘কী লজ্জা! বিমানে মাত্র একজন খেলোয়াড় ফিরে এসেছে’

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা   © টিডিসি ফটো

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর জাতীয় দল ও প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়ে সমালোচনা থামছেই না। এবার সেই আলোচনায় যোগ দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাও। মজার ছলে তিনি আনচেলত্তিকে যেমন 'আক্রমণাত্মক রোবট' দলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তেমনি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতা নিয়েও কড়া খোঁচা দিয়েছেন। এমনকি বলেছেন, ‘কী লজ্জা! বিমানে মাত্র একজন খেলোয়াড় ফিরে এসেছে।’

সাও পাওলোর মাউয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি পরিদর্শনে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর তৈরি একটি রোবট দেখে মুগ্ধ হন লুলা। পরে সেই রোবটের প্রসঙ্গ টেনেই আনচেলত্তিকে রসিকতার ছলে বার্তা পাঠান তিনি।

সেখানে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে লুলা বলেন, ‘আমি আনচেলত্তিকে ওই রোবটের প্রদর্শনী দেখিয়েছি। ছেলেটি একটি আক্রমণাত্মক রোবট তৈরি করেছে। ওকে দেখে মনে হচ্ছিল এমবাপ্পে, আবার হালান্ডও মনে হচ্ছিল। রোবটটি দারুণভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আমি আনচেলত্তিকে বার্তা পাঠিয়েছি, যদি কাউকে দলে নিতে চান, তাহলে এই রোবটকেই নিন। এই রোবটই ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাবে।’

এরপর আনচেলত্তির উদ্দেশে আরও কড়া মন্তব্য করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘তোমরা কি জানো আনচেলত্তি কে? তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ। তিনি অনেক খেলোয়াড় নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু প্রায় একাই ফিরে এসেছেন। জাতীয় দলের বিমানে ফেরার মতো প্রায় কেউই ছিল না। হে ঈশ্বর, কী লজ্জা! বিমানে মাত্র একজন খেলোয়াড় ফিরে এসেছে।’

আরও পড়ুনঃ আগে ভাগেই নিজেদের বিশ্বকাপ ঘাঁটি ত্যাগ করল আর্জেন্টিনা, মেসির আবেগঘন বার্তা

লুলার এই মন্তব্যের পেছনেও একটি কারণ রয়েছে। ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে শুধু ডানিলোই জাতীয় দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন। শেষ চারটি ম্যাচেই তিনি শুরুর একাদশে খেলেছিলেন।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অবশ্য ভালোই খেলেছিল ব্রাজিল। মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে পেছনে ফেলে 'সি' গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই নকআউট পর্বে ওঠে সেলেসাওরা। কিন্তু শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। প্রত্যাশার সঙ্গে সেই পারফরম্যান্সের কোনো মিল ছিল না।

এই হারের ফলে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা খরা আরও দীর্ঘ হলো। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল তারা। ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপে ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে সেলেসাওদের।

একই সঙ্গে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিল ব্রাজিল। ১৯৯০ সালে ক্লদিও পাওল কানিজিয়ার একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল তারা। এবার নরওয়ের কাছে হার তাদের সেই তিক্ত স্মৃতিই আবার মনে করিয়ে দিল।