মেসিকে ‘লা পুলগা’ কেন বলা হয়?
২০ বছর আগের এ দিনেই বিশ্বকাপে মেসির অভিষেক গোলটি এসেছিল, আর ঠিক দুই দশক পর গতকাল ১৬ জুনের ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে নিজের ১৬তম গোলটি তুলে নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি।
ক্যানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার এ জাদুকরী রাতে মেসি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করে বিশ্বকাপের ইতিহাসের যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন।
বিশ্বকাপের এ শীর্ষ গোলদাতাকে বিশ্বজুড়ে ভক্তরা ভালোবেসে ‘লা পুলগা’ (La Pulga) বলে ডাকেন। এটি একটি স্প্যানিশ শব্দ, যার বাংলা অর্থ হলো ‘মাছি’। মেসিকে এ অদ্ভুত নামে ডাকার পেছনে বেশ কিছু দারুণ কারণ রয়েছে-
১. শারীরিক গঠন ও শৈশবের গল্প
শৈশবে মেসি গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় ভুগছিলেন, যার কারণে তাঁর শারীরিক গঠন সমবয়সী অন্য বাচ্চাদের চেয়ে বেশ ছোট ও খাটো ছিল। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে যখন তিনি ছোটদের ক্লাবে খেলতেন, তখন তাঁর এই ছোটখাটো গড়নের কারণে তাঁর ভাইয়েরা এবং ক্লাবের বাকিরা তাঁকে প্রথম ‘লা পুলগা’ বা ‘ছোট্ট মাছি’ বলে ডাকতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁর পুরো ফুটবল ক্যারিয়ারেই এ ডাকনামটিতে জড়িয়ে যায়।
আরও পড়ুন: মেসির হ্যাটট্রিক জাদুতে উড়ে গেল আলজেরিয়া
২. খেলার অবিশ্বাস্য শৈলী
নামটি কেবল তাঁর শারীরিক আকৃতির জন্যই নয়, বরং মাঠে তাঁর খেলার ধরনের সাথেও দারুণভাবে মিলে যায়। মাছি বা ছোট পোকাকে যেমন সহজে ধরা যায় না এবং তারা চোখের পলকে দিক পরিবর্তন করে ফসকে যায়, মেসিও ঠিক তেমনি। মাঠে তাঁর ক্ষিপ্র গতি, অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের বড় বড় ডিফেন্ডারদের চোখের পলকে ফাঁকি দিয়ে বল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার দক্ষতার কারণে এ নামটির সার্থকতা আরও বেড়ে যায়।
ডিফেন্ডাররা শত চেষ্টা করেও এ ‘লা পুলগা’-কে সহজে বোতলবন্দী করতে পারেন না। খাটো শারীরিক গড়ন নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা সেই ‘লা পুলগা’ বা ছোট্ট মাছিটিই যে একদিন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মহীরুহ হয়ে উঠবেন এবং বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের চূড়ায় বসবেন, তা হয়তো দুই দশক আগেও কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।