‘আফ্রিকার সিংহ’র সামনে হট ফেভারিট ফ্রান্স, কী বলছে পরিসংখ্যান?
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই মহাদেশের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও সেনেগাল। একদিকে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স, অন্যদিকে আফ্রিকার অন্যতম সফল ও ধারাবাহিক দল ‘আফ্রিকার সিংহ’ সেনেগাল। কাগজে-কলমে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও ইতিহাস বলছে, সেনেগালকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ ২০০২ সালের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি। বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিল সেনেগাল। তৎকালীন ওই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন পাপা বুবা দিওপ। ফিফা এখনও সে জয়কে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচনা করে।
কি ঘটেছিল ২৪ বছর আগে?
২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম অবশ্য অতীতের সেই পরাজয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তার মতে, বর্তমান দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় তখন জন্মও নেয়নি। ২০০২ এর বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল ফরাসি মহাতারকা মিডফিল্ডার জিনেদিন জিদানের ইনজুরি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে চোট পাওয়ায় তিনি প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি, ফলে ফ্রান্সের মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব দেখা দেয়। এছাড়া পরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরো জয়ের পর দলটিতে কিছুটা আত্মতুষ্টিও কাজ করেছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে সেনেগালকে নবাগত দল মনে করা হলেও তাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড় ফ্রান্সের লিগে খেলতেন। ফলে ফরাসি ফুটবলের ধরন সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা ছিল। এল-হাজি দিউফের নেতৃত্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ ফ্রান্সকে চাপে ফেলে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, থিয়েরি অঁরি ও দাভিদ ত্রেজেগের মতো বড় তারকা ফরোয়ার্ড থাকা সত্ত্বেও পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলও করতে পারেনি ফ্রান্স। আর সেটিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ২০০২ সালের স্মৃতি ম্যাচটিকে বাড়তি আবেগ ও গুরুত্ব দিয়েছে।
সেনেগালের নতুন স্বপ্ন
আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সফল দল সেনেগাল। ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে দেশটি। বর্তমানে তারা আফ্রিকার সবচেয়ে ধারাবাহিক ও প্রতিযোগিতামূলক দলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। ২০০২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই সবাইকে চমকে দেয় সেনেগাল। অভিষেক বিশ্বকাপেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়, যা এখনো আফ্রিকার অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য। পরে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও অংশ নেয় দলটি এবং কাতার বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলো পর্যন্ত খেলেছিল।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২১ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতে ইতিহাস গড়ে সেনেগাল। ফাইনালে মিশরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় শিরোপা জেতে তারা। এই শিরোপাকে সেনেগাল ফুটবলের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ধরা হয়। বর্তমান সেনেগাল দলের অধিকাংশ ফুটবলার ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলেন। সাদিও মানে, কালিদু কুলিবালি, এদুয়ার মেন্দি, নিকোলাস জ্যাকসন, পাপে মাতার সার, ইলিমান এনদিয়ায়ের মতো ফুটবলাররা ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলে খেলেন। ফলে বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে তারা অভ্যস্ত।
মিডফিল্ডে সেরা সেনেগাল
গত এক দশকে আফ্রিকান ফুটবলে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানো দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেনেগাল। ২০২১ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ের পর দলটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তারা ছিল দুর্দান্ত। সেনেগালের সবচেয়ে বড় শক্তি শারীরিক সক্ষমতা ও গতি, সংগঠিত রক্ষণভাগ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, দলগত সংহতি, বড় ম্যাচে লড়াই করার মানসিকতা। ২০০২ সালে অভিষেকের পর থেকে তারা বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্স, সুইডেন, পোল্যান্ড ও ইকুয়েডরের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে।
বিবিসি স্পোর্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেনেগালের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শক্তিশালী মিডফিল্ড। অভিজ্ঞ ইদ্রিসা গেইকে ঘিরে গড়ে ওঠা মাঝমাঠ প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম। পাশাপাশি তাদের শারীরিক সক্ষমতা, গতি এবং পাল্টা আক্রমণের দক্ষতা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।
সাদিও মানে: সেনেগাল ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা সাদিও মানে এখনও দলের সবচেয়ে বড় তারকা। ২০২২ বিশ্বকাপ ইনজুরির কারণে মিস করলেও এবার তিনি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছেন। বড় ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণে তার গতি ও অভিজ্ঞতা সেনেগালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
আরও পড়ুন: প্রজেক্ট লিঙ্কডইনের গড়া হয় জাতীয় দল, তারাই থামিয়ে দিল পরাশক্তি স্পেনকে
কালিদু কুলিবালি : রক্ষণভাগের নেতা কুলিবালি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা সেন্টার-ব্যাক হিসেবে পরিচিত। বিবিসি স্পোর্টের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বিশ্বকাপে সেনেগালের হয়ে প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলেছেন তিনি। তার উপস্থিতি রক্ষণভাগকে স্থিতিশীলতা দেয়।
এদুয়ার মেন্দি : গোলবারের নিচে অভিজ্ঞ এদুয়ার মেন্দি এখনও নির্ভরতার প্রতীক। বড় ম্যাচে তার সেভ করার সক্ষমতা সেনেগালকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়।
পাপে মাতার সার ও লামিন কামারা : মাঝমাঠের এই দুই ফুটবলার বর্তমান সেনেগাল দলের প্রাণশক্তি। একজন আক্রমণ ও রক্ষণে সমান কার্যকর, অন্যজন বল নিয়ন্ত্রণ ও খেলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
যদিও সেনেগালের দলে তারকার অভাব নেই, তবে কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। বিবিসি স্পোর্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দলটির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নিয়মিত গোল করা একজন খাঁটি স্ট্রাইকারের অভাব। নিকোলাস জ্যাকসনের প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন নেই, তবে জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম। এছাড়া দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বয়সের কারণে আগের তুলনায় কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছেন। ফলে দ্রুতগতির আক্রমণভাগের বিপক্ষে কখনও কখনও তারা চাপে পড়ে যেতে পারেন।
কেন ফ্রান্স বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট?
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল ও শক্তিশালী দল ফ্রান্স। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ, ২০০৬ ও ২০২২ সালে রানার্সআপ, ২০০০ সালে ইউরো সহ বেশ কয়েকটি শিরোপা রয়েছে তাদের ঝুলিতে। এমনকি গত সাতটি বিশ্বকাপের মধ্যে চারবার ফাইনাল খেলে বজায় রেখেছে ধারাবাহিকতাও। বর্তমানে ফরাসি এ দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্কোয়াডের গভীরতা। প্রথম একাদশের পাশাপাশি বেঞ্চেও রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়। ফলে ইনজুরি বা নিষেধাজ্ঞা দলটির ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা খেলোয়াড়দের একজন এমবাপ্পে । তার গতি, ফিনিশিং এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতা ফ্রান্সকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।মিডফিল্ডে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের প্রতীকে এন’গোলো কান্তে। আর কোচ দিদিয়ের দেশম-এর অধীনে ফ্রান্স ট্যাকটিক্যালি বিশ্বের অন্যতম পরিপক্ব দল হিসেবে পরিচিত।
কিলিয়ান এমবাপ্পে : বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েন তিনি। গতি, ড্রিবলিং, গোল করার দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতার কারণে তাকে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় অস্ত্র মনে করা হয়। বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ১২ গোল করা এমবাপ্পে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন।
উসমান দেম্বেলে : ডান প্রান্তের এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় তার গতি ও সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত। দুই পায়ে সমান দক্ষ দেম্বেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভাঙন ধরাতে সক্ষম। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে তিনি ফ্রান্সের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
মাইকেল ওলিসে : তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার মাইকেল ওলিসে। আক্রমণ সাজানো, গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং দূরপাল্লার শটে তিনি বিশেষ দক্ষ। ভবিষ্যতের ফরাসি ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তাকে।
দেজিরে দুয়ে : ফরাসি ফুটবলের নতুন প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত নাম দেজিরে দুয়ে। মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ—দুই জায়গাতেই খেলতে পারেন। তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং সৃজনশীলতা ফ্রান্সকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এন'গোলো কান্তে : ফ্রান্সের মাঝমাঠের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একজন। বল দখল পুনরুদ্ধার, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙা এবং দলের ভারসাম্য রক্ষায় কান্তের অবদান অসাধারণ। তাকে ফ্রান্সের "মিডফিল্ডের ইঞ্জিন" বলা হয়।
অরেলিয়েন চুয়ামেনি : বর্তমান ফরাসি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার। রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী ট্যাকল ও পাসিংয়ের জন্য তিনি পরিচিত।
উইলিয়াম সালিবা : বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তরুণ সেন্টার-ব্যাক হিসেবে বিবেচিত হন সালিবা। রক্ষণে দৃঢ়তা, আকাশে আধিপত্য এবং বল নিয়ে খেলা শুরু করার দক্ষতার কারণে তিনি ফ্রান্সের রক্ষণভাগের প্রধান ভরসা।
থিও হার্নান্দেজ: বাম প্রান্তের এই ডিফেন্ডার আক্রমণ ও রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর। দ্রুতগতিতে সামনে উঠে আক্রমণে সহায়তা করা তার অন্যতম শক্তি।
ফ্রান্সের দূর্বলতা
সেনেগালের সাবেক উপনিবেশিক শাসক ছিল ফ্রান্স। দেশটির বহু ফুটবলার ফরাসি লিগে খেলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এমনকি ২০০২ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ দলে থাকা অধিকাংশ খেলোয়াড়ও ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্লাবে খেলতেন। তাই ফরাসি ফুটবলের ধরন সম্পর্কে সেনেগাল বরাবরই ভালো ধারণা রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল রক্ষণভাগে ইনজুরি। এছাড়া কখনও কখনও মাঝমাঠে সৃজনশীলতার ঘাটতি দেখাও লক্ষ্য করা গেছে, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ খুব নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজায়। ফ্রান্স বড় তারকানির্ভর দল হওয়ায় অনেক সময় এমবাপ্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিপক্ষ যদি তাকে কার্যকরভাবে আটকে রাখতে পারে, তাহলে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে যেতে পারে।
সেনেগালের জন্য কেন কঠিন হবে?
ইএসপিএন, বিবিসি স্পোর্ট এবং দ্য অ্যাথলেটিকের বিশ্লেষণে বারবার উঠে এসেছে, ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তাদের বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপের চাপের মুহূর্তে ফরাসি খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অনেক দলকেই পিছিয়ে দেয়।
তবে ২০০২ সালের স্মৃতি ফ্রান্সকে সতর্ক রাখবে। কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেনেগালই একমাত্র আফ্রিকান দল, যারা নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচে তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারানোর কীর্তি গড়েছিল। ফ্রান্সকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ধরা হচ্ছে। দলটির আক্রমণভাগে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ের মতো তারকা। মাঝমাঠে এন'গোলো কান্তের অভিজ্ঞতা এবং বেঞ্চের গভীরতা ফ্রান্সকে অন্য অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে রাখে।
কী বলছে পরিসংখ্যান?
পরিসংখ্যানের বিচারে ফ্রান্স এগিয়ে। সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপে তারা একবার চ্যাম্পিয়ন এবং একবার রানার্সআপ হয়েছে। অন্যদিকে সেনেগালের সেরা অর্জন ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০২২ সালে শেষ ষোলোতে ওঠা। তবে ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ সাক্ষাতে জয়ী দল সেনেগাল। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ফেভারিট বনাম আন্ডারডগের ম্যাচ নয়; বরং বিশ্বকাপের অন্যতম কঠিন উদ্বোধনী লড়াই।
ফিফার ম্যাচ প্রিভিউতে বলা হয়েছে, ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে দাপট দেখিয়ে আসা ফ্রান্স এবং আফ্রিকান বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করা সেনেগাল—দুই দলই নিজেদের সেরা ছন্দে রয়েছে। ফলে ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি হতে পারে। ২০০২ সালের মতো আরেকটি অঘটন ঘটবে, নাকি বিশ্বসেরা ফ্রান্স নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে—সে উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।