১০ জুন ২০২৬, ১২:৪৪

মেসি বদলেছেন বারবার, তবু প্রভাব অটুট

লিওনেল মেসি  © টিডিসি ফটো

১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারলে এবং ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দেশ হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়লে সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবেন লিওনেল মেসি।

৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত, যা তাকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও গুইলারমো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপের এক অনন্য রেকর্ডের অংশ করে তুলবে।

তবে এই মেসি আর দুই দশক আগে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হওয়া কিশোর মেসি এক নন। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার খেলার ধরন, মাঠে দায়িত্ব এবং প্রভাব বিস্তারের কৌশলও।

ফুটবলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত গতি ও শারীরিক তীক্ষ্ণতা কমে আসে। অনেক তারকাই তখন নিজেদের নতুন ভূমিকায় মানিয়ে নেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেমন ধীরে ধীরে উইঙ্গার থেকে পরিণত হয়েছেন মূল গোলদাতায়।

মেসির পরিবর্তনটা হয়েছে আরও ভিন্নভাবে। তিনি শুধু নিজের খেলা মানিয়ে নেননি, বরং মাঠে এমন অবস্থান তৈরি করেছেন যাতে গতি কমলেও খেলার ওপর তার নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন থাকে। বর্তমানে তাকে অনেক সময় কম দৌড়াতে বা ধীরগতিতে হাঁটতে দেখা যায়। কিন্তু সেটি আসলে প্রতিপক্ষকে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক মুহূর্তে আঘাত হানার কৌশল।

বার্সেলোনায় ১৬ বছর বয়সে অভিষেকের পর থেকে অন্তত পাঁচবার নিজের খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন এনেছেন মেসি। ডানপ্রান্তের দ্রুতগতির উইঙ্গার থেকে শুরু করে ফলস নাইন, প্লেমেকার এবং এখন আরও গভীর থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণকারী ফুটবলার প্রতিটি রূপান্তরই তাকে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে টিকিয়ে রেখেছে। বর্তমানের আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির মেসি সেই দীর্ঘ বিবর্তনেরই ফল।

আরও পড়ুন : প্রস্তুতি ম্যাচে নজর কাড়লেন আর্জেন্টিনার যে ৫ ফুটবলার

রোনালদিনহোর ভবিষ্যদ্বাণী

তরুণ মেসির প্রতিভা খুব দ্রুতই নজর কাড়ে ফুটবল বিশ্বের। বার্সেলোনার কিংবদন্তি রোনালদিনহো একবার অনুশীলনে তাকে দেখে বলেছিলেন, ‘সে একদিন সবার চেয়ে বড় হবে।’

এর দুই বছর পর, ২০০৫ সালের আগস্টে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্ব প্রথমবারের মতো মেসির অসাধারণ প্রতিভার পূর্ণ ঝলক দেখতে পায়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তার পারফরম্যান্স এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে জুভেন্টাসের তৎকালীন কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোও তাকে দলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

কেন্দ্রীয় ভূমিকায় উত্তরণ

বার্সেলোনায় মেসির ভূমিকায় বড় পরিবর্তনের শুরু হয় যখন তার বয়স ২১ বছর। তৎকালীন কোচ ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড তাকে আরও কেন্দ্রীয় অবস্থানে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্য ছিল সহজ মেসি যত বেশি বল স্পর্শ করবেন, দলের আক্রমণ তত বেশি কার্যকর হবে।

সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে তার খেলার ধরনে বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে। ধীরে ধীরে তিনি শুধু গোলদাতা নন, বরং পুরো ম্যাচের ছন্দ, আক্রমণের দিকনির্দেশনা এবং বলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

এই ধারাবাহিক রূপান্তরের কারণেই দুই দশক পরও মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন। শারীরিক সক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও খেলার বুদ্ধিমত্তা, অবস্থান নির্বাচন এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে তিনি এখনও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার স্বপ্নও তাই অনেকটাই নির্ভর করছে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ওপর।

আরও পড়ুন : রেকর্ডবুকে নতুন করে নাম লেখালেন লিওনেল মেসি

প্রসঙ্গত, বার্সেলোনার হয়ে ২০০৪ সালে অভিষেকের পর লিওনেল মেসি ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অধরা স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। আগামী বিশ্বকাপে মাঠে নামলে তিনি ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার রেকর্ড গড়বেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।