৩১ মে ২০২৬, ১০:৫৬

চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব, গ্রেপ্তার চার শতাধিক

ফ্রান্সজুড়ে উল্লাসকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ  © সংগৃহীত

ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর ফ্রান্সজুড়ে উল্লাসকে কেন্দ্র করে ফুটবল সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চার শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ফরাসি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতির কারণে প্যারিসে বাস, ট্রেন ও রেলসেবাও ব্যাহত হয়। উল্লাসের সময় বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করা হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শহরের কেন্দ্রস্থলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

পিএসজির টানা শিরোপা জয়ের আনন্দের মধ্যেই এটি দ্বিতীয় বছর, যখন ফুটবলকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটল। ২০২৫ সালে পিএসজির শিরোপা জয়ের পরও উদযাপন সহিংস রূপ নিয়েছিল এবং তখন প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, প্যারিসের রাস্তায় ফ্লেয়ার জ্বালানো হচ্ছে, বৈদ্যুতিক মোটরবাইক আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং অন্তত একটি দোকানের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেয়েদের ছবি ও নাম দিয়ে ফেসবুকে ভুয়া আইডি থাকলে করণীয় কী, প্রতিকার পাবেন কোথায়?

ফাইনালে টাইব্রেকারে জয়ের পরপরই প্যারিসের বিখ্যাত শঁজেলিজে এলাকায় হাজারো সমর্থকের ঢল নামে। এর আগে ম্যাচ চলাকালে পিএসজির পার্ক দে প্রিন্সেস স্টেডিয়ামের বাইরে বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা সমর্থকদের সঙ্গেও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় ছয়টি যানবাহন, দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ভোর পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৮০ জনকে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, সংঘর্ষে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি এ ধরনের সহিংসতাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি নেতা মারিন লে পেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘শুধু ফ্রান্সেই একটি ফুটবল ক্লাবের জয় দাঙ্গার জন্ম দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ফ্রান্সেই মানুষ বিজয়ের রাতেও সহিংসতার আশঙ্কায় নিজেদের ঘরে আবদ্ধ রাখতে বাধ্য হয়।’

রবিবার বিকেলে পিএসজি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে একটি বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা আইফেল টাওয়ারসংলগ্ন শঁ দ্য মার্স এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং পরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের পর পিএসজির উদযাপনও সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল। সে সময় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজন নিহত হন।