১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:২০

বিদেশে স্কলারশিপ: আবেদনের আগে যেসব নথি প্রস্তুত রাখবেন

স্কলারশিপ প্রাপ্ত দুই শিক্ষার্থী  © টিডিসি সম্পাদিত

বর্তমানে প্রায় সকল শিক্ষার্থীই স্বপ্ন দেখে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়তে যাওয়ার। এর মধ্যে কেউ চায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অথবা আংশিক মূল্যের স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে গিয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট, কেউ স্নাতক, কেউ স্নাতকোত্তর, কেউবা আবার সরাসরি পিএইচডি বা ডক্টরেট ডিগ্রী গ্রহণ করতে। এজন্য বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রেরণের মাধ্যমে আবেদন করতে হয় স্কলারশিপের জন্য। 

আজ আমরা স্কলারশিপের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে জানবো। যেগুলো আপনাকে আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সত্যায়িত করে রাখতে হবে। তবে কোন নথি প্রয়োজন হবে তা দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম ও স্কলারশিপভেদে ভিন্ন হতে পারে।

(১) বৃত্তির আবেদন ফর্ম
প্রথম পদক্ষেপে, আপনাকে স্কলারশিপের আবেদন ফর্মটি পূরণ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন ফর্ম অনলাইনে পূরণ করে জমা দেওয়া যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি ডাউনলোড করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে।

(২) একাডেমিক সনদ এবং ট্রান্সক্রিপ্ট
স্কলারশিপের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনীয় একাডেমিক ডিগ্রির সনদ এবং ট্রান্সক্রিপ্টের প্রতিলিপি প্রয়োজন হতে পারে। এই নথিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী সত্যায়িত এবং প্রয়োজন হলে অনূদিত করে জমা দিতে হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে আবেদনের শুরুতেই সত্যায়িত কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

(৩) পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
অনেক ক্ষেত্রে আপনার একটি বৈধ পাসপোর্টের কপি প্রয়োজন হতে পারে। তবে পাসপোর্ট আবেদনের সময় অবশ্যই কমপক্ষে ৬ মাস বৈধ থাকতে হবে। আবার অনেক দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় আপনার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান করা কপিও চাইতে পারে।

(৪) ভাষা দক্ষতার সনদ
আপনার ভাষা দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস, টোফেল, পিটিই বা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়/স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো ভাষা দক্ষতার সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন পরীক্ষা এবং কী স্কোর প্রয়োজন হবে তা প্রোগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তের ওপর নির্ভর করে।

(৫) স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি)
অনেক ক্ষেত্রে এসওপি বা স্টেটমেন্ট অব পারপাস  একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং কেন ওই বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কলারশিপ আপনার জন্য উপযুক্ত এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। তাই কিভাবে একটি ভালো SOP তৈরি করা যায় তা নিয়ে আগে থেকেই ভাবনা-চিন্তা করুন। নিজের জানাশোনা বাড়ান, যারা ইতিপূর্বে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারেন।

(৬) রিকমেন্ডেশন লেটার
স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য রিকমেন্ডেশন লেটার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। কোথাও নির্দিষ্ট ফরমে, কোথাও অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে এবং কোথাও সরাসরি রেফারির কাছ থেকে রিকমেন্ডেশন লেটার চাওয়া হয়। তবে কার কাছ থেকে রিকমেন্ডেশন নিতে হবে, সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত আপনার শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন এমন শিক্ষক, গবেষক বা পেশাগত ব্যক্তির কাছ থেকে রিকমেন্ডেশন নেওয়া হয়।

(৭) সিভি
স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আপনার একটি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সিভিতে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন পেশাগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা, গবেষণা, প্রকাশনা, পুরস্কার, ভাষা দক্ষতা ও কম্পিউটার দক্ষতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক তথ্য যুক্ত রাখতে পারেন।

(৮) ভাষা দক্ষতা ও ভর্তি পরীক্ষার স্কোর
আপনার প্রোগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অনুযায়ী আইইএলটিএস, টোফেল এর মতো ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার স্কোর এবং স্যাট, জিম্যাট, জিআরই এর মতো ভর্তি পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব স্কলারশিপ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক নয়। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের নির্দিষ্ট শর্ত দেখে নিতে হবে।

আরও দেখুন: ৪০ লাখ বছরে মানুষের মস্তিষ্ক বেড়েছে ৫ গুণ, নেপথ্যে কী কারণ?

(৯) পিতামাতার আর্থিক তথ্য
বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অনুযায়ী, বিশেষ করে প্রয়োজনভিত্তিক (নিড-বেজড) স্কলারশিপের ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার পিতামাতার আর্থিক তথ্য অথবা পারিবারিক আর্থিক অবস্থা প্রমাণের নথি দেখাতে হতে পারে। এর মধ্যে আয়, সম্পদ, করসংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র থাকতে পারে।

(১০) মেডিকেল রিপোর্ট বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রমাণপত্র
আপনার নিজের দেশের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার বা হাসপাতালের মাধ্যমে মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে হতে পারে। তবে এটি সব স্কলারশিপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নয়; দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের চাহিদা অনুযায়ী মেডিকেল রিপোর্ট বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে।

(১১) গবেষণা প্রস্তাব
আপনি যদি গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স এবং পিএইচডি করার জন্য স্কলারশিপে আবেদন করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে একটি গবেষণা প্রস্তাবপত্র রিসার্চ প্রপোজাল বা রিসার্চ প্ল্যান জমা দিতে হতে পারে। তবে সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক নয়। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি প্রস্তুত করতে হবে।

(১২) অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি
দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের ধরন অনুযায়ী জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্বের প্রমাণ, কাজের অভিজ্ঞতার সনদ, পুরস্কার বা অর্জনের প্রমাণপত্র, পোর্টফোলিওসহ অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া ডকুমেন্ট চেকলিস্ট দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।