০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২৭

জুলাই আন্দোলনে হুমকিদাতা মনিরুলকে নিজ দপ্তরে বসালেন গোবিপ্রবি ভিসি

গোবিপ্রবির ভিসির দপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তা চৌধুরী মনিরুল হাসান  © টিডিসি সম্পাদিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কর্মকর্তা চৌধুরী মনিরুল হাসানকে ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) দপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক (হিসাব) জনাব চৌধুরী মনিরুল হাসানকে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পাশাপাশি ভাইস-চ্যান্সেলর দপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে।  আদেশটি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই সময় জুলাই বিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি মিছিলে তাকে সম্মুখ সারিতে দেখা যায়। মিছিল শেষে দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিওতেও তাকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিওতে চৌধুরী মনিরুল হাসানকে বলতে শোনা যায়, হাসিনা বলেছেন গণভবনের দ্বার খোলা আলোচনার জন্য। কিন্তু এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে যেসব শিক্ষার্থী আজ জুলাই আন্দোলনের সাথে জড়িত, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এ ছাড়া আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে গালি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ১৭ বাসের ৬টিই অচল, মেরামতে নেই উদ্যোগ

এ পদায়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশর গোবিপ্রবি শাখার সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব বলেন, জুলাই বিরোধী চৌধুরী মনিরুল হাসান আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতৃত্বে ছিল। শিক্ষার্থীদের ৩ আগষ্টের র‍্যালিতে হুমকি দিয়েছিল এবং মিছিলে সে নেতৃত্ব দিয়েছিল। সেটার প্রতিদান স্বরূপ বর্তমান ভিসি স্যার তাকে প্রমোশন দিয়ে উপাচার্যের পিএস এর মতো স্থানে অসীন করা বর্তমান ভিসির আদর্শের সাথেই সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, আর যদি ভিসি স্যার এটাকে ন্যায় মনে করেন তাহলে তিনিও হয়ত গুপ্ত জুলাই বিরোধী। বর্তমান প্রশাসন কে বলব, যারা জুলাই বিরোধী ছিল তাদের সংশোধন হতে দেন, সময় দেন কিন্তু তাদের কে সামনে এনে বড় পদ দিবেন এগুলো কিন্তু আপনাদের জন্যে ভালো কিছু বয়ে আনবে না।

অন্যদিকে, চৌধুরী মনিরুল হাসানের পদায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোহেল হাসান বলেন, আমার কাছে শোনার থেকে আমার জনসংযোগ দপ্তর থেকে জেনে নিতে পারেন। আর আমার এ বিষয়ে তেমন কিছু বলার নাই। এখানে যারা আছে তাদের অধিকাংশই একই রকমের। আমার একজন অভিজ্ঞ লোক দরকার দপ্তর চালানোর জন্য। আমার তো দপ্তরের কাজ পরিচালনা করা লাগবে, সেদিকেই লক্ষ্য রেখে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।