গলাকাটা ফি নিয়ে নিম্নমানের আইডি কার্ড সরবরাহ করছে গোবিপ্রবি প্রশাসন
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ৪০০ টাকা ফি নিয়ে স্মার্ট আইডি কার্ডের পরিবর্তে নিম্নমানের ও অস্পষ্ট স্টুডেন্ট আইডি কার্ড সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানসম্মত আইডি কার্ড পুনরায় প্রস্তুত করে দেওয়ার লিখিত দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) লোকপ্রশাসন বিভাগের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগপত্রে এ দাবি জানানো হয়। অভিযোগপত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও প্রক্টরের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, লোকপ্রশাসন বিভাগের অনার্স ২০২৪-২৫ এবং মাস্টার্স ২০২৪-২৫ সেশনের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করলে বিভাগ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে একাডেমিক শাখা থেকে শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়। তবে সরবরাহ করা কার্ডগুলোর ছবি ও প্রিন্টের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কার্ডে থাকা প্রয়োজনীয় তথ্যও অস্পষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তির সময় স্মার্ট আইডি কার্ড বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরবরাহ করা আইডি কার্ডের মান প্রত্যাশিত পর্যায়ের না হওয়ায় এটি বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি এমন নিম্নমানের আইডি কার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
আরও দেখুন: ৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে জনবল নিয়োগ দেবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, একজন শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে আইডি কার্ডে স্পষ্ট ছবি ও পাঠযোগ্য তথ্য থাকা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পরিচয় নিশ্চিতকরণ, পরীক্ষা, লাইব্রেরি, পরিবহনসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আইডি কার্ড সরবরাহ করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় নিম্নমানের আইডি কার্ডগুলো পুনরায় প্রস্তুত করে স্পষ্ট ছবি, পাঠযোগ্য তথ্য ও উন্নতমানের প্রিন্টসহ নতুন আইডি কার্ড সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আইডি কার্ডের জন্য নেওয়া ৪০০ টাকা ফি-এর যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘এটা মূলত প্রিন্টারের কারণে হচ্ছে, কারণ আমাদের প্রিন্টারের মান খুব খারাপ। আমরা অনেক আগেই প্রশাসনের কাছে প্রিন্টার চেয়েছিলাম ওখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ডিন ও চেয়ারম্যানসহ রেজিস্ট্রার স্যারও ছিলেন। ওখানে আমাদের আস্বস্ত করা হয়েছিল নতুন প্রিন্টার সরবরাহের জন্য কিন্তু পরবর্তীতে এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং আমাদের প্রিন্টার ও দেওয়া হয়নি।’
আরও দেখুন: ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আজকে তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় ফাইল নোট দিয়েছি। প্রশাসন থেকে ভালো প্রিন্টার সরবরাহ করলেই আমরা ভালো মানের আইডি কার্ড দিতে পারব।’