পাবিপ্রবির ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন না আবাসিক সুবিধা
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালে। তবে প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি আবাসিক সুবিধা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী হল সুবিধার বাইরে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি বিভাগে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিপরীতে আবাসিক সুবিধা রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি সিটের, যা মোট শিক্ষার্থীর ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৫ জনকেই শহর কিংবা আশপাশের এলাকায় বাসা বা মেস ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে।
হলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা হলে ৫০০টি, জুলাই-৬ ও গণতন্ত্র হলে ১ হাজারটি করে এবং মাতৃভাষা হলে ২৫০টি সিট রয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতা ও মাতৃভাষা হলে বর্তমানে ১টি করে গণরুম রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতা হলের একটি গণরুম বিলুপ্ত করা হলেও এখনো দুটি হলে গণরুম সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
আরও পড়ুন: ইউজিসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিজিএ-মন্ত্রণালয়ে চিঠি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চালু করা হয় জুলাই-৬ ও গণতন্ত্র হল। তবে নতুন এ দুটি হলে এখনো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। ফলে হলে থেকেও অনেক শিক্ষার্থীকে নানামুখী ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। আবাসন সংকটের কারণে যেমন শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে তেমনি নিরাপত্তা, যাতায়াত ও পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, পরিবার থেকে নিয়মিত খরচ নেওয়া সম্ভব হয় না। বাবা নেই। তাই কষ্ট করে বড় ভাইয়ের একটি বেডে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।
স্বাধীনতা হলের গণরুমে থাকা শিক্ষার্থী দ্বীপ সাহা বলেন, আর্থিক সমস্যার কারণে গণরুমে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু এখানে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের কোনো নিরাপত্তা নেই। প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থী তাসনিম রহমান বলেন, জানুয়ারিতে হলে ওঠার সময় সবগুলো লিফট চালু থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুটি লিফট সচল আছে। ফলে নিচে নামতেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া অনেক সময় ওয়াশরুমে পানির সংকটও দেখা দেয়।
ফাতিহাতুল রিমঝিম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বাইরে থেকে ক্লাস করতে এসে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাতায়াতে। যানজট ও পরিবহন সংকটের কারণে সময় এবং খরচ দুটোই বেড়ে যায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগের প্রকল্পের কাজ এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে পুরোপুরি বুঝে না পাওয়ায় নতুন কোনো হল বা একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন আপাতত সরকার থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।
জুলাই ৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করা গেলে আরও কয়েকটি ১০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে।
গণতন্ত্র হলের প্রভোস্ট লায়লা আরজুমান্দ বানু বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে নতুন ভবন নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। তাই নতুন জমি অধিগ্রহণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আসার পর সরকারকে অবহিত করেছি জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে। তবে এটি লম্বা প্রক্রিয়া এজন্য সময় লাগবে। আশা করি জমি অধিগ্রহণ করা হলে আমাদের আবাসন সংকট সমস্যার সমাধান হবে।