০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯

পে স্কেলের নিম্ন গ্রেডে কাটছাঁট করলে মানবেন না সরকারি কর্মচারীরা

নবম জাতীয় পে স্কেল  © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করব অন্তত জাতীয় পে-কমিশন যে সুপারিশটা করেছেন ২০ হাজার টাকা, সেখান থেকে যেন কাটছাঁট করা না হয়। প্রয়োজনে এখান থেকে বৃদ্ধি করেন। ওপরে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা যেটা বলেছেন সেটা দরকার ১ লাখ ৪০ এ নিয়ে আসেন, ১ লাখ ৫০ এ নিয়ে আসেন, সেখান থেকে কমান।’

বুধবার (১ জুলাই) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন আব্দুল। তিনি বলেন, ‘নিচ থেকে যদি আরো কমান তাহলে থাকবে কি? তো আমরা এটা তো বিচলিত হবই। কর্মচারীরা সেটা আসলে মেনে নেবে না, ভালোভাবে দেখবে না।’

এ কর্মচারী নেতা বলেন, ‘জাতীয় পে-কমিশন স্কেলটাকে যাচাই-বাছাই করে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। এবারের প্রথম পে-কমিশনে যে কর্মচারী অঙ্গনের যত সংগঠন আছে, সব সংগঠনকে ডেকে তাদের মতামত, মানে মতবিনিময় সভা করে তারা কি চায় কি চায় না, সে জিনিসটা তারা কমিশন নিয়েছে। এরপরে অনলাইনে সাধারণ মানুষেরও মতামত যেটা জরিপ, সেটা নিয়েছে। এরপরে আপনার যে পুলিশ বা ডিফেন্স আর্মিতে যারা আছে তাদের মতামত নিয়েছে, প্রত্যেকটাই কিন্তু আলাদা আলাদা ভাবে মতামত নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০০টা সংগঠন ওই পে-কমিশনে মতবিনিময়ে সবাই অংশ নিয়েছে এবং তাদের মত নিয়েছে। তারপরে সর্বশেষ যারা একেবারে টপ অফ দ্য সার্ভিস, সচিব পর্যায়ে যারা, তাদের নিয়েও পে-কমিশন মতবিনিময় সভা করে তারপরে কিন্তু এই স্কেলটাকে তারা চূড়ান্ত করেছে। তাই আমরা বলব যে এটাকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই কিন্তু তারা ২০ হাজার টাকায় মত দিয়েছেন এবং সুপারিশ দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ৩৫ হাজার টাকা, সেখান থেকে ১৫ হাজার টাকা কাটছাঁট করে দিয়ে আপনি ২০ হাজার টাকায় নিয়ে আসছেন। আর আমরা সর্বোচ্চটা বলেছিলাম ১:৪ অনুপাতে, মানে আমরা এখন যেটা বেতন পাচ্ছি ২০১৫ সাল অনুযায়ী ১:১০ অনুপাতে, মানে ১:৯ পয়েন্ট মানে একেবারেই ১০ এর কাছাকাছি। তো আমরা সেটাকে কমিয়ে, বৈষম্য কমিয়ে নিয়ে আসার জন্য ১:৪ অনুপাতে আমরা চেয়েছি যে সর্বোচ্চ যেটা, সেটা বলেছিলাম যে ১ লাখ ৪০ হাজার আর নিচেরটা ৩৫ হাজার। আমাদেরটা আপনি কমালেন, ২০ হাজার টাকায় নিয়ে আসলেন।’

আরও পড়ুন: ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন: বেসিক ভাঙার সিদ্ধান্তে যেসব জটিলতার আশঙ্কা

‘ওপরে যেটা ১ লাখ ৩৫ মানে ১ লাখ ৪০ হাজার বলেছি, সেটাকে আপনি আরো ২০,০০০ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০,০০০ করলেন। মানে ভাতা ওনারাই খাবে, আমরা খাব না। এখানেও কিন্তু একটা বৈষম্য তৈরি করেছে। অথচ দেখেন বাজার কিন্তু সবার জন্য সমান। তাই না? যে গরিব, তার জন্যও বাজারে গেলে যে দাম; যে ধনী, তার জন্যও বাজারে গেলে দাম একই। দামের কিন্তু কোনো পরিবর্তন নেই’, যোগ করেন তিনি।

আব্দুল মালেক বলেন, ‘এরকমও ব্যবস্থা নেই যে, বড়লোকের জন্য একটা বাজার, গরিবের কম বেতন যারা তাদের জন্য আরেকটা বাজার আছে। এরকম নেই। সবার জন্য সমান, একই বেতন দিয়া বাজারে যায়, কিন্তু দ্রব্যমূল্যের দাম সবার জন্য সমান। বেতন সবার জন্য সমান না। তাহলে সেক্ষেত্রে ওনারা আমাদের সেই ৩৫-কে কেটে ২০ হাজারে নিয়ে আসছে। এখন যদি বলেন যে, দুইটা পে-স্কেলের সমন্বয়ে ৩৫ চেয়ে ২০ হাজারে নিয়ে আসছেন, এখন আবার যেটা গুঞ্জন শুনছি যে, এখান থেকেও কাটছাঁট করতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, ‘২০ হাজার থেকে যদি কাট করেন, তাহলে আপনি এর থেকেও কমে আসবেন, হয় ১৯ করবেন, না হয় ১৮ করবেন, না হয় ১৪ করবেন, না হলে ১৫ করবেন। আপনারাই নেন শুধু, তাহলে কর্মচারী যারা, বেশিরভাগই তো কর্মচারী। তাহলে তারা কি করে বাঁচবে? আপনি দেখেন প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে, প্রতিটি মানুষ এবং এটার সাফারটা কিন্তু সাধারণ মানুষকেও করতে হচ্ছে। প্রত্যেকটা সেক্টরে কিন্তু দাম বাড়ছে।’