পে স্কেল বাস্তবায়ন চেয়ে স্মারকলিপির পর নতুন কর্মসূচি সরকারি কর্মচারীদের
৯ম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। গত ৫ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেছেন। একই দাবিতে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দেশের সব বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলায় নতুন কর্মসূচি হিসেবে আলোচনা সভা করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সমিতির আহবায়ক ও সদস্য সচিব প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আসন্ন বাজেটে পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন নেতারা।
দ্রুত পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে কর্মচারীদের ক্ষোভ, অসন্তোষ, দূর করে সবাইকে কর্মমুখী করে তোলার আহবান জানান সমিতির আহবায়ক আবদুল মালেক। নেতারা বলছেন, দীর্ঘ ১১ বছরেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: রুয়েটে ক্লাস শুরুর সম্ভাব্য সময় প্রকাশ, ফাঁকা আসন ও ভর্তি বাতিল নিয়ে নতুন নির্দেশনা
সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। এছাড়া পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভা ও প্রতিনিধি সমাবেশ চলবে।
সংগঠনের আহবায়ক আব্দুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করা হচ্ছে। তবে কল্যাণ সমিতির সব আন্দোলন কর্মসূচি পালন সবই হবে নিয়ম-শৃংখলা ও গণতান্ত্রিক ভাবে।
নেতারা প্রত্যাশা করেন, প্রধানমন্ত্রী ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অভাব অভিযোগ এবং ঋণগ্রস্ত কর্মচারীদের দুঃখ কষ্ট আমল নিয়ে দ্রুত পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবেন। কারণ সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় একটি অংশ। সে অংশ ভালো রাখাও সরকারেরই দায়িত্ব।