৪৫০ কোটি ব্যয়ে ৯ ‘স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রকল্পে ধীরগতি, দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ছে
দ্বিতীয় দফায় বাড়ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘৯ সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রকল্পের’ কাজের মেয়াদ। প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটির ছয় বছরে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে দুই প্রতিষ্ঠানের। এখনো নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি আরও সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। প্রথম দফায় এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে নির্মাণাধীণ সাত প্রতিষ্ঠানের চারটির কাজ প্রায় শেষের দিকে, বাকি তিন প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পন্ন করতে প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় বাড়ছে আরও ছয় মাস। নির্ধারিত সময়ে কাজগুলো শেষ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে আসতেও বিলম্ব হচ্ছে।
প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে ৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পটি শুরু হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্পে কাজ দৃশ্যত শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে মন্ত্রণালয়। নতুন নামকরণ করা হয়, ৯টি সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৬ কোটি টাকা। ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২টির ভবন হবে ৬ তলা করে, বাকিগুলো ১০ তলা করে ভবন নির্মাণ করা হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
২০২৫ সালের মধ্যে জয়পুরহাট ও মৌলভীবাজারের দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকসহ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৬ সাল থেকে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত সরকারি এই দুই প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বাকি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ শেষ না হওয়ায় ‘৯ সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রকল্পের’ মেয়াদ প্রথম দফায় (২০২৬ সাল পর্যন্ত) এক বছর বাড়ানো হয়। মেয়াদ বাড়লেও ৪ প্রতিষ্ঠানের নির্মাণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪ সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রধান শিক্ষকও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। দ্রুত সময়েই সহকারী শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগও দেওয়া হবে।
২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে ৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পটি শুরু হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্পে কাজ দৃশ্যত শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে মন্ত্রণালয়। নতুন নামকরণ করা হয়, ৯টি সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৬ কোটি টাকা। ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২টির ভবন হবে ৬ তলা করে, বাকিগুলো ১০ তলা করে ভবন নির্মাণ করা হবে।
তিন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ নতুন করে আরও ৬ মাস বাড়ানো হবে বলে প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, জমি ক্রয়, অধিগ্রহণ করতে সময় ব্যয় হয়ে যাওয়ায় নির্মাণ কাজ শুরুতেও দেরি হয়। চলতি বছরের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ করার সম্ভাবনা কম থাকায় ৬ মাস মেয়াদ বাড়ানো হবে। তাই দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হবে।
বছরের মাঝামাঝি অর্থ্যাৎ ২০২৭ সালের জুন-জুলাইয়ে কাজ শেষ হলে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। তাই ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে। এর আগেই শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ২০১৯ জুনের জুনে প্রজেক্ট শুরু হলেও করোনাকালীন সময়ে প্রায় ২ বছর প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ছিল স্থিমিত। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুথান এবং অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের সক্ষমতা রয়েছে। ৯টি স্কুল অ্যান্ড কলেজে থাকছে, মোট ১৪৫টি শ্রেণি কক্ষ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, আইসিটি ল্যাব, বিজ্ঞানাগার, শিক্ষক কমনরুম, শিক্ষার্থী কমনরুম, লাইব্রেরি, বেঙ্কোয়েট রুম, নামাজ ঘর, দর্শনার্থী কক্ষ, বিএনসিসি কক্ষ, গার্লস গাইড কক্ষ, প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষ, স্টোর রুম, মিড-ডে-মিল কক্ষ, সেমিনার হল, মাল্টিপারপাস হল রুম, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অফিস কক্ষ, লিফট ও টয়লেট ব্লক। এ ছাড়াও আইসিটি সরঞ্জাম, বিজ্ঞানাগারের সংস্থানসহ খেলাধুলা সামগ্রী সরবরাহ করা হবে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ‘সংসদে সবাই বলে স্যার, বাড়ি ফিরে দেখি চায়ের মগ আর ভাতের বাসন আমি ধুবো!’
৯ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-জয়পুরহাটের শহীদ মাহতাব উদ্দিন মন্ডল সরকারি বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ; মৌলভীবাজারের বর্মাছাড়া টি গার্ডেন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শ্রীমঙ্গল; শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম (পূর্ব পতেঙ্গা) ও মাস্টারদা সূর্যসেন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম (উত্তর পতেঙ্গা)। রাজশাহীর (ছোট বনগ্রাম) শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ, রাজশাহীর (বড় বনগ্রাম) হাসান আজিজুল হক সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ।
ময়মনসিংহের (ছত্রপুর) ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ। রংপুর (কামালকাছনা) বীরাঙ্গনা মনছুরা বেগম সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর (উত্তম) বীরাঙ্গনা রুপালী রাণী সিংহ সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ জয়পুরহাট ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের দুই প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজশাহী, রংপুরে একটি করে এবং চট্টগ্রামে ২টির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো—রাজশাহীর (ছোট বনগ্রাম) শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর (কামালকাছনা) বীরাঙ্গনা মনছুরা বেগম সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম (পূর্ব পতেঙ্গা) ও মাস্টারদা সূর্যসেন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম (উত্তর পতেঙ্গা)। এ চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৯ সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রকল্পের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২টির শিক্ষাকার্যক্রম চলছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আরও ৪ প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক কাজ শুরু করা যাবে। বাকিগুলোর জন্য মেয়াদ বাড়ানো হবে।’