তিন স্কুলে ৮০৩ শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ
দেশের তিনটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, জাল সনদ ব্যবহার এবং বিধি বহির্ভূতভাবে ৮০৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের তথ্য পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। এসব শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল, বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটিই রাজধানী ঢাকার।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবৈধ নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৬৬২ শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ বলে জানিয়েছে ডিআইএ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৭৬ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ৭৩ জনের সনদই জাল। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৮ শিক্ষককে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মনিপুর স্কুলে বিগত সময়ে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া বনপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ের এত শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির বিষয়টি উদ্বেগজনক। সিদ্ধেশ্বরীতেও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবৈধ নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৬৬২ শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ বলে জানিয়েছে ডিআইএ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৭৬ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ৭৩ জনের সনদই জাল। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৮ শিক্ষককে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৬৬২ নিয়োগ অবৈধ
সম্প্রতি মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সালের সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করেছে ডিআইএ। সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নিয়োগ পাওয়া ৬৬২ জন শিক্ষকের নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখার মধ্যে মূল বালক (প্রভাতী) শাখায় ৬৭ জন, দিবা শাখায় ৬৫ জন, মূল বালিকা (প্রভাতী) শাখায় ৭৫ জন এবং দিবা শাখায় ৬১ জন শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম ধরা পড়ে।
এ ছাড়া ব্রাঞ্চ-১ এর প্রভাতী শাখায় ৬৩ জন ও দিবা শাখায় ৬১ জন, ব্রাঞ্চ-২ এর প্রভাতী শাখায় ৩২ জন ও দিবা শাখায় ৩১ জন এবং ব্রাঞ্চ-৩ এর প্রভাতী শাখায় ৫৬ জন ও দিবা শাখায় ৫৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বিধিবহির্ভূত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলেজ শাখাতেও একই ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে। কলেজের প্রভাতী শাখায় ২৪ জন, দিবা শাখায় ২৬ জন, ইংলিশ ভার্সনের প্রভাতী শাখায় ২৫ জন এবং দিবা শাখায় ২৪ জন শিক্ষকের নিয়োগকে অবৈধ বলা হয়েছে।
৭৬ শিক্ষক-কর্মচারীর ৭৩ জনের জাল সনদ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে ডিআইএর তদন্তে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ৭৩ জনের সনদই জাল।
এর মধ্যে কলেজ শাখার ৬১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সবার সনদই ভুয়া বলে জানিয়েছে ডিআইএ। এসব জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন চাকরি করে সরকারি অর্থ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রোল মডেল হবে নোবিপ্রবি
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ শাখার শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়েছেন ৪ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং স্কুল শাখার শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়েছেন ১ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮০১ টাকা।
সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৮ শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ নেই
তদন্তে দেখা গেছে, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৮ জন শিক্ষকের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিবন্ধন সনদ নেই। ফলে তাদের নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে চাকরিকালীন সময়ে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫২ জন শিক্ষক-কর্মচারী খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কর্মরত রয়েছেন এবং তারা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন পেলেও সরকারি বেতন-ভাতার জন্য যোগ্য নন।
শিক্ষামন্ত্রী যা বললেন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। তিনি বলেছেন, ‘অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদনগুলো দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’