০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬

১ ডিসেম্বর এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বোর্ডের, আজ শিক্ষামন্ত্রী বললেন— ‘২ ডিসেম্বর’

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও বোর্ড বিজ্ঞপ্তি  © সংগৃহীত

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা শুরুর তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আগামী ২ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ২ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে পরীক্ষা শুরুর তারিখ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত বা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে ২ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই তারিখ পরিবর্তন করে ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে বোর্ড।

এদিকে বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মাতুয়াইলে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী ২ ডিসেম্বর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন: এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার তারিখ জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের যেন পরবর্তী পরীক্ষার জন্য পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। একটি বা দুটি বিষয়ের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে এক বছর অপেক্ষা করতে হবে—এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা চাই, তারা দ্রুত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফলাফল জেনে পরবর্তী শিক্ষাজীবনের প্রস্তুতি নিতে পারুক। এ লক্ষ্যে আগামী ২ ডিসেম্বর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, যারা এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে কিংবা সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের যেন নতুন করে এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়।

তিনি বলেন, এ ছাড়া চলতি মাসের ১ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ নভেম্বর। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের জন্য এ মাসের মধ্যেই আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যাদের ফলাফলে পরিবর্তন আসবে, তারা যেন সময়মতো ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়টিও আমরা বিবেচনায় রেখেছি।

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেসব দুর্বলতা ও অনিয়ম রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে আমরা দেখেছি, প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে এবং কোথায় সততা ও নিষ্ঠার ঘাটতি আছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব পরীক্ষকের উত্তরপত্র মূল্যায়নে দুর্বলতা রয়েছে, তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। আর যাঁরা ভুলভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসএসসির পর এবার এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রও পুনর্নিরীক্ষণ করা হচ্ছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

শেষে তিনি বলেন, অন্যদিকে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে এসব শিক্ষায় যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে আবারও এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। আমি চাই, কোনো শিক্ষার্থী যেন হতাশ হয়ে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। তারা যেন মাদকাসক্তি কিংবা মোবাইল আসক্তির মতো নেতিবাচক অভ্যাসে জড়িয়ে না পড়ে। বরং পড়াশোনা, কারিগরি প্রশিক্ষণ কিংবা অন্য কোনো গঠনমূলক কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষাও আমরা দ্রুত আয়োজনের উদ্যোগ নিচ্ছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো ধরনের সেশনজট তৈরি না হয়। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ধারিত সময়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারে, সেটিও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।