২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪৯

খাতা পুনর্মূল্যায়নে নীতিমালা হচ্ছে, শাস্তি পাচ্ছেন ‘অনুচিত’ নম্বর দেওয়া শিক্ষকরা

খাতা পুর্নমূল্যায়নে নীতিমালা হচ্ছে, শাস্তি পাচ্ছেন ‘অনুচিত’ নম্বর দেওয়া শিক্ষকরা  © এ আই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি

এসএসসি-এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ‘পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা’ হচ্ছে। এ নিয়ে পাবলিক এসব পরীক্ষার মূল দায়িত্বে থাকা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি প্রাথমিক আলোচনা করেছে। দুয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি উপস্থাপন করবেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে পরবর্তীতে নীতিমালা প্রণয়নে কাজ শুরু হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব তথ্য জানান।

এই নীতিমালা শিক্ষার্থীদের পারীক্ষার খাতার একটি ‘অনুচিত নম্বর’ নির্ধারণ করবে। পরে এই অনুচিত নম্বর কোন কোন পরীক্ষক দিয়েছেন, তারাই শাস্তির আওতায় আসবেন। ফলে পরীক্ষকরা জবাবদিহির আওতায় আসছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ‘ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিং’ বিষয়ে যেসব শিক্ষকের ত্রুটি রয়েছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে একটি নীতিমালা করা হবে। আগামীকাল বুধবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা বিষয়টি জানানো হবে। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ‘পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা’ করতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। 

নীতিমালা কমিটি একটি ‘অনুচিত নম্বর’ নির্ধারণ করবে। পরে এই অনুচিত নম্বর কোন কোন শিক্ষক দিয়েছেন, তারাই শাস্তির আওতায় আসবেন বলে জানান তিনি। 

‘অনুচিত নম্বরটি’ কত হতে পারে জানতে চাইলে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘নীতিমালা কমিটিই নম্বর নির্ধারণ করবে। কোন সংখ্যাটা অনুচিত নম্বর হবে, তা আলোচনা সাপেক্ষে যাচাই-বাছাই শেষে বলা যাবে।’ 

আরও পড়ুন: ‘ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিং’ নিয়ে তদন্ত হবে, শিক্ষকদের শাস্তি হতে পারে ৫ বছরের জেল

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ‘ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিং’ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষকের ত্রুটি বা অপরাধ প্রমাণিত হলে শিক্ষকরা ৫ বছরের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। তবে শস্তির বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকরা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভও প্রকাশ করেছে। ফলে সংশ্লিষ্টরা খাতা মূল্যায়নের জন্য একটি নীতিমালার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে অনুমোদিত সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শিরোনামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মন্ত্রিসভা কর্তৃক দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬।’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষকের ত্রুটি বা অপরাধ প্রমাণিত হলে শিক্ষকরা ৫ বছরের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়াও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেসব পরীক্ষক ‘ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিং’ করেছেন, তাদের বিষয়ে স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ড একটি তালিকা প্রস্তুত করছে। ইতোমধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড একটি তালিকা তৈরি করছে বলে জানান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।

পরে গত ১১ আগস্ট শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ ছিল। এতে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করে। তাদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও ছিল। 

এরপরই ‘ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিং’ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। আর অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনতেই এবং খাতা মূল্যায়নে সঠিকতা ধরে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।