শিক্ষায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা, ৬৪ বছর পরও সেই প্রশ্ন
আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস। শিক্ষাকে সবার অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা সংকোচন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দাবিতে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাজপথে নেমেছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা। পুলিশের গুলিতে সেদিন প্রাণ হারান বাবুল, গোলাম মোস্তফা ও ওয়াজিউল্লাহসহ কয়েকজন। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয় মহান শিক্ষা দিবস।
২০২৬ সালে এসে সেই আন্দোলনের ৬৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন এলেও শিক্ষার সুযোগ, ব্যয়, মান, বৈষম্য ও একটি স্থিতিশীল শিক্ষানীতির প্রশ্ন এখনো আলোচনায় রয়েছে। চলতি বছরও শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাবিদদের লেখায় টেকসই শিক্ষানীতির প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
যে কারণে রাজপথে নেমেছিলেন শিক্ষার্থীরা
১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান শিক্ষাসচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। পরে কমিশনের প্রতিবেদন শরীফ কমিশন রিপোর্ট নামে পরিচিত হয়। প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষার মেয়াদ বাড়ানো, শিক্ষা ব্যয় ও অর্থসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
শিক্ষার ব্যয় নিয়ে কমিশনের কিছু সুপারিশ তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কমিশনের প্রতিবেদনে শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয় এমন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল। পাশাপাশি অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাকেও অবাস্তব হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়। ডিগ্রি কোর্সের মেয়াদ দুই বছর থেকে তিন বছর করার প্রস্তাব ছিল আন্দোলনের অন্যতম তাৎক্ষণিক কারণ। এরপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
১৭ সেপ্টেম্বর রক্তাক্ত রাজপথ
বৈষম্যমূলক এ শিক্ষানীতির প্রতিবাদে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পালিত হয় হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। ঢাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও রাজপথে নামে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
ঢাকার হাইকোর্ট এলাকার কাছে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে নবকুমার স্কুলের ছাত্র বাবুল, বাসের কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা এবং গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ নিহত হন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
তবে ওই দিনের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সূত্রভেদে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি হিসাবে একজন নিহত, ৭৩ জন আহত ও ৫৯ জন গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল; আন্দোলনকারীদের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল তিনজন।
রক্তাক্ত এই ঘটনার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে শরীফ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন স্থগিত করা হয়।
৬৪ বছর পর শিক্ষার সেই প্রশ্নগুলো কোথায়?
১৯৬২ সালের আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং শিক্ষা সংকোচনের বিরোধিতা। ছয় দশকের বেশি সময় পর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সুযোগের বিস্তার ঘটেছে। তবে শিক্ষার ব্যয়, মান ও সুযোগের বৈষম্য এখনো আলোচনার বিষয়।
বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত লক্ষ্যেও স্থানিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাকে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পণ্য হিসেবে ব্যবহার না করার লক্ষ্যও উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শিক্ষা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশ্লেষণগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল শিক্ষানীতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
শিক্ষার অধিকার থেকে মানসম্মত শিক্ষার প্রশ্ন
১৯৬২ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল প্রশ্ন ছিল শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হবে কি না। বর্তমান সময়ে সেই প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু বিষয়; শিক্ষার মান কেমন হবে, শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের সুযোগের পার্থক্য কতটা কমানো যাবে, দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা কতটা সহজলভ্য হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থা কর্মজীবনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
সরকারের ঘোষিত শিক্ষা লক্ষ্যেও শিক্ষাকে জীবনঘনিষ্ঠ, সৃজনশীল, প্রয়োগমুখী ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিনির্ভর করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থসামাজিক ও নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যও রয়েছে।
ফলে ১৭ সেপ্টেম্বর শুধু অতীতের একটি আন্দোলন স্মরণের দিন নয়; শিক্ষা কীভাবে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে—সেই প্রশ্নও সামনে আনে।
১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনের শিক্ষা কী?
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাবিদদের আলোচনায় ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনকে শুধু একটি কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন হিসেবে না দেখে শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর আন্দোলন হিসেবে দেখার বিষয়টি উঠে আসে। তৎকালীন আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির অংশগ্রহণও ছিল।
৬৪ বছর পর বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামনে তাই নতুন বাস্তবতা। প্রযুক্তির পরিবর্তন, কর্মবাজারের চাহিদা, উচ্চশিক্ষার বিস্তার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষায় বৈষম্য কমানোর মতো বিষয়গুলো এখন নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে।
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূল দাবি ও শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আমাদের শিক্ষার্থীরা চেয়েছিলেন, এ জনপদের নিজস্ব সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে আমাদের মতো করে একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমাদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি— অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ছিল আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস। সময়ের সঙ্গে এর পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন করা যেত। অক্সফোর্ডের কথাই ধরুন, তাদেরও একটি নিজস্ব ঐতিহ্য ও ভিত্তি রয়েছে। সময়ের সঙ্গে তারা সেটিকে আধুনিকায়ন করেছে, কিন্তু মূল ভিত্তিটা ধরে রেখেছে। আমাদেরও সেটাই করা দরকার ছিল। অথচ আমরা আমাদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে পশ্চিমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
আরও দেখুন: এক নজরে দেখুন সপ্তাহের সেরা ১৫ সরকারি চাকরি
ঢাবি অধ্যাপক বলেন, ‘এটাই ছিল শিক্ষা আন্দোলনের মূল স্পিরিট। কিন্তু আজকে অনেকেই সেই ইতিহাস জানেন না। এমনকি শিক্ষা দিবসটিও যথাযথভাবে পালন করা হয় না। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের দাবি ও আকাঙ্ক্ষাগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কোনো সরকারই সঠিক পথে হাঁটেনি এবং আমরা আসলে কী চাই, সেটিও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাতীয় শিক্ষা দর্শন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। একেক দল ক্ষমতায় এসে নিজেদের মতো করে কমিশন করে, এরপর শিক্ষানীতি পরিবর্তন করে। আবার অন্য দল ক্ষমতায় এসে আগেরটি বাদ দেয়। এবার তো তাও কোনো কমিশন করা হয়নি, এমনিতেই পরিবর্তন শুরু করে দেওয়া হয়েছে। একবার পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হয়, আবার কারিকুলাম পরিবর্তন করা হয়। অথচ পুরো বিষয়টির জন্য আগে একটি জাতীয় শিক্ষা দর্শন নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’
শিক্ষানীতির ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবার আগে দরকার একটি জাতীয় শিক্ষা কমিশন। এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা সংস্কারের জন্য কমিশন করার কথা পরিষ্কারভাবে বলেছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা উচিত। তবে শুধু প্রতিশ্রুতির কারণে নয়, দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনের জন্যও একটি শিক্ষা কমিশন করা অত্যন্ত জরুরি।’
ঢাবি অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে সরকার যে বিক্ষিপ্ত সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে, সেগুলো বরং শিক্ষার আরও ক্ষতি করছে। একটি ভাঙা ভবনে বারবার তালি দিয়ে কোনো লাভ হয় না; সেটিকে সংস্কার করতে হয়। এখন যত খরচ করা হচ্ছে, সেটিও অপচয় হচ্ছে। সবার প্রতিনিধিত্ব নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। শুধু কোনো একটি রাজনৈতিক দলের লোকজনকে নিয়ে কমিশন করলে হবে না। রাষ্ট্র ও সমাজের সব ধরনের মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি, সমতল, গ্রাম সব এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। ওই কমিশন জাতীয় শিক্ষা দর্শন নির্ধারণ করবে। সেই দর্শনের আলোকে শিক্ষানীতি তৈরি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নীতির মধ্য দিয়েই ঠিক করতে হবে দেশে কওমি মাদ্রাসা, সাধারণ মাদ্রাসা, সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার অবস্থা কী হবে। স্মার্ট বোর্ড আগে প্রয়োজন, নাকি স্মার্ট শিক্ষক সেটিও ঠিক করতে হবে। স্মার্টফোনের ব্যবহার কতটুকু হবে, তৃতীয় ভাষা কোন শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে, সেটি বাধ্যতামূলক হবে নাকি ঐচ্ছিক থাকবে এসব বিষয়ও জাতীয় শিক্ষা দর্শনের আলোকে নির্ধারণ করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জেলায় জেলায়, উপজেলায় উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে কি না, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কমানো হবে সেটিও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেক কলেজে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে অনার্স পড়ানো হচ্ছে। এগুলো চলবে কি না, কীভাবে কমানো হবে, প্রতিবছর আমরা লক্ষ লক্ষ বেকার তৈরি করব কি না এসব প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।’
ঢাবি অধ্যাপক বলেন, ‘শিক্ষার কাছে আমাদের প্রত্যাশা কী, আমরা শিক্ষা দিয়ে কী অর্জন করতে চাই এই দর্শনটা আগে নির্ধারণ করা দরকার। এর আলোকে নীতিমালা হবে। নীতিমালা বলে দেবে আমরা কী করব, কী করব না। এরপর সেই নীতির আলোকে শিক্ষাক্রম এবং শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবই তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা উল্টোভাবে এগোচ্ছি।’
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বৈষম্য হলো, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো সুসংগঠিত কাঠামো নেই। যে মূল নীতি বা শিক্ষানীতির ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হবে, সেটিই তো নেই। সরকারকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আপনারা কোন নীতির ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন, তারা হয়তো ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সর্বশেষ শিক্ষানীতির কথা বলবে। যদি সেটির ওপর ভিত্তি করে চলে, তাহলে সেটিও ভুল। কারণ ওই নীতিতে অনেক ভুল ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি জাতীয় শিক্ষানীতি ছাড়াই যেন চলছি। কোটি কোটি মানুষের শিক্ষা ব্যবস্থা এভাবে চলতে পারে না। এর ফলেই বৈষম্য তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মোটা দাগে তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বড় একটি অংশ মাদ্রাসায় যাচ্ছে, মধ্যবিত্তের সন্তানরা বাংলা মাধ্যমে পড়ছে এবং উচ্চবিত্তের সন্তানদের একটি বড় অংশ ইংরেজি মাধ্যমে পড়ছে। ফলে শিক্ষার মাধ্যমে একটি বিভাজিত ও বৈষম্যমূলক সমাজ তৈরি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানে রাষ্ট্র একই ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা ও জাতীয় সংহতির কথা বলছে। কিন্তু শিক্ষার মাধ্যমে আমরা উল্টো বিভাজিত সমাজ তৈরি করছি। যারা এর পক্ষে কাজ করছেন, তারা বিষয়টির গভীরতা বুঝতে পারছেন না।’
আরও দেখুন: টেলিটকে ২ পদে চাকরি, আবেদন করা যাবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত
১৯৬২ সালের আন্দোলনের মূল দাবি বর্তমান বাংলাদেশে কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালের আন্দোলনের মূল ভিত্তিই ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা। তখন বৈষম্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে। এখন সেই বৈষম্য ধনী ও গরিবের মধ্যে আরও বিস্তৃত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি দেখবেন, ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এখন অনেক টাকা প্রয়োজন। আপনার প্রচুর অর্থ থাকলে সন্তানকে ভালো শিক্ষা দিতে পারবেন, না হলে পারবেন না। অথচ সারা বিশ্বে ১০ম শ্রেণি বা ১২তম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে করার উদাহরণ রয়েছে। আমরা এখনো সেই পর্যায় পর্যন্ত সবার জন্য নিশ্চিত করতে পারিনি।’
যে বয়সী শিশুদের বই পড়ার কথা, স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সী শিশুরা চায়ের দোকানে, ক্যান্টিনে কিংবা বিভিন্ন কাজে যুক্ত হচ্ছে। এমনকি যে বয়সী শিশুদের বই পড়ার কথা, সেই বয়সী শিশুরা অন্য শিশুদের জন্য বই ছাপানোর কাজ করছে। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তারই পড়ার কথা, অথচ সে অর্থনৈতিক কারণে অন্যের পড়ার বই তৈরি করছে। ১৯৬২ সালে শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার যে দাবি ছিল, সেটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বিভিন্ন মাত্রায় শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বেড়েছে। — অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষা দিবস পালনে সরকারি তেমন কোনো নির্দেশনা নেই বলে নিশ্চিত করে একাধিক কর্মকর্তা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাধারণ প্রশাসন শাখার উপপরিচালক শামীম আল মামুনকে শিক্ষা দিবস উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এখনো পাইনি বা আমার জানা নেই। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আমি পাইনি। ’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মো. আসিফ আহমেদ বলেন, ‘আমার জানা মতে, এ দিবস উপলক্ষে তেমন কোনো নির্দেশনা নেই।’
তবে মাউশির এইচআরএম শাখার উপপরিচালক মো. শওকত হোসেন মোল্যা বলেন, ‘নির্দেশনা আছে। আমি স্যারের সঙ্গে একটি মিটিংয়ে আছি। এটা শেষ করে জানাব।’