২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০

বিদ্যুতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া—নতুন মন্ত্রী বলছেন, ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে

বকেয়ার কারণে বড় সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ খাতে  © বিবিসি বাংলা

দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে বিপুল অংকের দেনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের নতুন সরকার বিদ্যুৎ খাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে যাচ্ছে। রমজানের পর সেচ ও গ্রীস্ম মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও সমাধান করতে বেগ পেতে হবে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

এখনই বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এ বছর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারের নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অর্থ সংস্থান করে পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে। পরিকল্পনা আছে, তবে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতে টোট্যালি ফিনান্সিয়ালি ব্যাংকরাপ্ট করে দিছে। অনেক বকেয়া, অনেক দেনা পাওনা। জ্বালানি নাই, ইমপোর্ট করতে হবে। মোট কথা হলো ভেরি কমপ্লিকেটেড। কাজ করে এগুলি সমাধান করতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে পরিস্থিতি তাতে সংকট কাটাতে সরকারের সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ জ্বালানি আমদানি সরাসরি ডলারের মজুদে প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনের বিশ্লেষণ হলো, ‘নরমালি আমরা যেটা দেখি গরম যখন পড়বে তখন দেখা যাবে যে প্রচুর লোডশেডিং হবে।’

বাংলাদেশে গত জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি ১৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আমদানি সক্ষমতা মিলিয়ে স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। সারাদেশে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২০২৫ সালের ২৩জুলাই ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে দেশি বিদেশি কোম্পানির কাছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হিসেবে ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে তাদের। বেসরকারি কোম্পানিগুলো গত সাত-আট মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পায়নি।

এত বকেয়া কীভাবে জমলো এ প্রশ্নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করীম বলেন, শুরুর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এটা বেড়েছে। এটা ফ্রম দা বিগিনিং উকিমিলিটিভ হারে হতে হতে এ অবস্থায় এসেছে। আমরা যেটা পাচ্ছি, সরকারের থেকে সাবসিডি সেটা মাইনাস হচ্ছে এভাবে হতে হতে এ পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে আরো কিছু মাইনাস হবে, আমরা সরকার থেকে আরো কিছু টাকা পাব সাবসিডি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পিডিবির বকেয়া এক পর্যায়ে তিন মাসে নেমে এসেছিল। তবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের পর থেকে আর কোনো বিল পরিশোধ করেনি বলেও জানায় বেসরকারি উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, এ পরিস্থিতি নতুন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। অন্তর্র্বতী সরকার ইচ্ছাকৃত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে কিনা সে সন্দেহের কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

তবে সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, টাকার বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের উপর নির্ভর করে, এখানে ইচ্ছাকৃত বকেয়া রাখার কোনো ইস্যু নেই। সরকারের শেষ পর্যায়ে ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করার একটা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, অর্থ পরিশোধ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক সক্ষমতা উপর নির্ভর করে। রেভিনিউ সংকটের কারণেই তারা বিল পরিশোধ করতে পারেনি। কোনো ইনটেনশনাল কিছু নেই। এটা টাকার অ্যাভেলএবিলিটির উপর নির্ভর করে। বিপিডিবি যখন টাকা পায় তখন দেয়। ওদের সোর্স হচ্ছে রেভিনিউ এবং অর্থবিভাগ থেকে ভর্তুকী।

বাংলাদেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মোট উৎপাদন সক্ষমতার ২৩ শতাংশের মত। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলে চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৩৭ মেগাওয়াট বা ২০ শতাংশের মত। এর মধ্যে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সক্ষমতাই প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট।

সরকার অতিসত্বর বকেয়া পরিশোধ শুরু না করলে গরমে চাহিদামত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন হবে বলে উল্লেখ করেছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিপপা। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বলছে, বিলের বকেয়া কমিয়ে চার পাঁচ মাসে না আনলে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তেল আমদানি কঠিন হয়ে পড়বে। এসব কোম্পানি নিজেরাই অধিকাংশ তেল আমদানি করে। এলসি খোলার পর ৪০-৪৫ দিন লেগে যায় আমদানি করা তেল দেশে আসতে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গরমে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেসরকারি উৎপাদনকারীরা।

বিপপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এলসি খুলতে সমস্যার কারণে এরই মধ্যে তেলের নিট মজুদ কমেছে। গত জানুয়ারিতে যে মজুদ এক লাখ মেট্রিক টনের বেশি ছিল, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এসে নিট মজুদ আশি হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

পিডিবি বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সময়মতো বিদ্যুৎ দিতে না পারায় চুক্তি অনুযায়ী এলডি বা লিকুইডিটি ড্যামেজ ধার্য করেছে। তবে এটি নিয়েও আপত্তি তুলেছে বেসরকরি উৎপাদনকারীরা। অমিমাংসিত এলডি ইস্যুর দিকে ইঙ্গিত করে পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের কিছু ইস্যু আছে সেগুলো কী হয় দেখি তারপরে এটা ফাইনালি কমেন্ট করা যাবে’।

জ্বালানি সংকট
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রাথমিক জ্বালানির সংস্থান করে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে মোট সক্ষমতার ৮৮ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাস কয়লা এবং তেলের ব্যবহার হয়। এ জ্বালানির বড় অংশই আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হয়। এছাড়া তেল ও কয়লা প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘এখন থেকে এক মাস পরে মূল চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। আমরা যদি মনে করি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবহার করব, এলএনজি ইমপোর্ট করব এবং কয়লা আমদানি করব, কিন্তু প্রশ্ন হলো এটার জন্য যতটুক খরচ হবে, যতটা ডলার লাগবে সেটা কি দেয়া হবে কিনা।’

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাস্ম জ্বালানির ব্যবহার বেশি। ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের যা লাগবে সব ইমপোর্ট করব নাকি ডলার সেইভ করার চেষ্টা করব, এটা সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এখন সরকার কীভাবে খেলবে, তার ওপর নির্ভর করবে। আমি একটা হিসেব করেছি ১৩ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার লাগে যদি আমরা সব এনার্জি আমদানি করি। আমাদের তো আরো বেশি লাগবে। ক্যাপাসিটি পেমেন্টসহ সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মতো লাগে। কিন্তু আমাদের এত টাকা নেই।’

ইজাজ হোসেন বলছেন, অর্থ সংস্থানের জন্য বিদেশি দাতা সহায়তাও লাগবে, আবার সরাসরি বিনিয়োগেরও প্রয়োজন হবে। বিদ্যুতের ভর্তুকি প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। আমরা হিসেব করে দেখেছি যে গত বছরে কয়লার যে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো বাৎসরিক ৫৫ শতাংশ লোড ফ্যাক্টরে চলেছে, কিন্তু এগুলো চলা উচিৎ ৮৫ শতাংশ হারে। তার মানে আরো এতখানি বেশি বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারতাম কয়লা দিয়ে। বাট কয়লা ইমপোর্ট করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলা হচ্ছে প্রধান।

ইজাজ হোসেন মনে করেন, তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনের ব্যাপারে ভর্তুকির নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে দিতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়। আমি মনে করি এটার ব্যাপারেও একটা রেস্ট্রিকশন দেবে ফাইন্যান্স মিনিস্টার। এই রেস্ট্রিকশন কিন্তু আওয়ামী লীগ আমল থেকে আরম্ভ হয়েছে। তখন তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালাতো আবার ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রি পিডিবিকে বলে দিতে তোমরা এত বেশি তেলে খরচা করতে পারবে না।

তিনি বলেন, আমার ধারণা এটা এবারও আসবে। তা না হলে তো ভর্তুকি সাংঘাতিক হয়ে যাবে। অলরেডি আমাদের প্রতি কিলোওয়াট আওয়ারে সাড়ে ৪ টাকা করে আমরা সাবসিডি পাচ্ছি। নতুন সরকারকে বুঝে শুনে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হব। গত বছরও আমরা দেখেছি যে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ছিল। এখানেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তর্র্বতী সরকার যেটা করেছে যে, তারা ফুল ইমপোর্ট করেনি। তারা ইন্ডাস্ট্রির এনার্জি ডিমান্ডের কোনো তোয়াক্কাই করেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভর্তুকির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বহুমাত্রিক কৌশল নিতে হবে। যার মধ্যে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, তেলভিত্তিক কেন্দ্র কমিয়ে আনা, লোডশেডিং সমন্বয় করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। বিদ্যুৎ খাতে দায় দেনা পরিশোধ এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলছেন আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলছেন, এখন প্রায়োরিটি রোজার মধ্যে বিদ্যুৎ চালানো, সেচের সময় বিদ্যুৎ চালানো মানুষের কষ্ট যাতে কম হয় সেটার জন্য চেষ্টা করব। কয়লা আনতে হবে। এলপিজি, এলএনজি আনতে হবে। এদিকে পাহাড় পরিমাণে বাকি করে গেছে, বকেয়া করে গেছে এই সব মিলিয়ে ফিন্যান্সিয়াল একটা চ্যালেঞ্জ আছে বড়।

গরমে চাহিদা পূরণ ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। তিনি বলছেন, ‘তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্ট্যান্ডবাই থাকবে। ইমার্জেন্সি হলে চালাব। যেগুলো বকেয়া আছে তাদেরকে কিছুটা দিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো চালু রাখা তারপরে বসে লংটার্ম চিন্তা ভাবনা করা। সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের মতো হতে পারে। এটার ব্যবস্থা আছে, গ্যাসের শর্ট আছে, ওইটা পূরণ করার ব্যবস্থা করতেছি।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম পুরো পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি উচ্ছেদ করেন ভালোভাবে চলবে। সৎভাবে যে সমস্ত আইপিপি তৈরি হয়েছে এবং যারা বিদ্যুৎ দিচ্ছে, তারা যথাসময়ে যথাযথভাবে বিল পাবে। যারা অসৎভাবে তৈরি করেছে তারাই সংকট তৈরি করেছে। তাদের কারণেই এ বকেয়া, তাদেরকেই খেসারত দিতে বাধ্য করতে হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে আলোচনায় ৫ শিক্ষকের নাম

শামসুল আলম মনে করেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়েই সমস্যা। প্রথমত হচ্ছে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর দরকার নেই। কয়লার ক্যাপাসিটি আছে সাত হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সেটার প্ল্যান্ট ইউজ ফ্যাক্টর হচ্ছে মাত্র ৪৫ শতাংশ। কয়দিন আগে সেমিনারে উঠে এসেছে যে, তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিলে আমাদের সাশ্রয় হয় ২৮-৩০ হাজার কোটি টাকা। আমরা তা দিয়ে কয়লা আনলে অনায়াসে আমাদের চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।

শামসুল আলম মন করেন, ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এই বকেয়া ক্রাইসিস, আজকে এই মূল্য বৃদ্ধি, লুন্ঠণমূলক্য ব্যয়বৃদ্ধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরো বন্ধ করে চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে কিনা এ প্রশ্নে, ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আপাতত এটা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘নো, ইটস অ্যাবসুলুটলি ইমপসেবল। কয়লা সম্পূর্ণ আমদানি করলেও তেল কিছুটা লাগবে। কারণ ডিমান্ড যখন বেড়ে যায়, পিক টাইমে তখন তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ লাগবে। আমাদের লোডশেডিংয়ের ব্যাপার শুধু না। আমাদেরতো ইন্ডাস্ট্রিতেও গ্যাস দিতে হবে। সেটা যদি করতে হয় তাহলে তো পাওয়ারে গ্যাস কম দিতে হবে। তাহলে সেটা ম্যানেজ করতে হলে কয়লা লাগবে। তেল লাগবে।

এ ব্যাপারে নতুন সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, অতীতের নানা অনিয়ম সামলে কীভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে, সেজন্য সরকার তার ভাষায় ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ অর্থাৎ সংকট সামলানোর পথ খুঁজে দেখছে। খবর: বিবিসি বাংলা