২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭

স্ত্রী-ছেলে ওমরায়, আরেক ছেলে ও মেয়ে নিউজিল্যান্ডে—মৃত্যুর সময় একজন ছাড়া পরিবারের কাউকে পাননি সেই শিক্ষক

মেট্রোরেলে স্ট্রোক করে প্রাণ হারান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নাজিবুর রহমান  © ফাইল ছবি

রাজধানীতে মেট্রোরেলে স্ট্রোক করে মারা গেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নাজিবুর রহমান। মৃত্যুর আগে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় আশপাশের যাত্রীদের কাছে বসার জন্য জায়গা চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাকে কেউ বসার সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নাকিবুর রহমান।

এমনি জীবনের শেষ সময়ে পরিবারের একজন সদস্য ছাড়া আর কাউকে পাশে পাননি তিনি। স্ত্রী ও এক সন্তান ওমরায় এবং আরেক ছেলে ও মেয়ে বিদেশে থাকায় তারা কেউ তার পাশে থাকতে পারেননি। শাহবাগ স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে উত্তরা যাওয়ার পথে শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

ছেলে নাকিবুর রহমান জানান, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল তার বাবার। বাবাকে মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনে নামানোর পর আনসার সদস্যদের সহায়তায় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিলে তাকে। সহকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। 

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে তার বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন জানিয়ে তিনি বলেন, মৃত্যুর সময় পরিবারের কেউ বাবার পাশে ছিলেন না। মা ও ছোট ভাই ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে বিমানের টিকিটসংক্রান্ত জটিলতায় সময়মতো দেশে ফিরতে পারেননি তারা। 

বোন পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে থাকেন। আরেক ভাইও পড়াশোনা করছেন সেখানে। তারাও বাবার মৃত্যুর পর দেশে আসতে পারেননি। পরিবারের সদস্যদের ছাড়াই বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় নজীবুর রহমানকে।

এ ঘটনায় কাউকে দোষারোপ করছেন না জানিয়ে নাকিবুর বলেন,যে কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। বয়স্ক মানুষের প্রতি সবার সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। তাঁদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন।

আরও খবর: শেষ বিদায় নিলেন কক্সবাজারে রিসোর্টে নিহত ঢাবি ছাত্র নাফিস ও পরিবারের ৬ সদস্য

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বাবার মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন নাকিবুর। পোস্টে তিনি লেখেন, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে তার বাবা মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মুহূর্তেই মারা যান। মৃত্যুর আগে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করে আশপাশের যাত্রীদের কাছে বসার জায়গা চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেউ তাকে জায়গা ছেড়ে দেননি।

তিনি বলেন, তার বাবা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে নিচে পড়ে যান। আল্লাহ তার মৃত্যুকে সহজ করে দিয়েছেন। তবে সন্তান হিসেবে বিষয়টি মেনে নেওয়া কষ্টকর। এ ঘটনায় কারও প্রতি তার রাগ বা অভিমান নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বাবার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেট্রোরেলে যাতায়াতের নিয়মকানুন নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা কিংবা কাউকে দায়ী করে মন্তব্য না করার অনুরোধ জানিয়েছেন নাকিবুর রহমান। তিনি বলেন, মেট্রোরেলে যাতায়াতসংক্রান্ত উচিত-অনুচিত বিষয় তুলে ধরে কাউকে দোষারোপ করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। চলাফেরার সময় আশপাশের মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি খেয়াল রাখাই উত্তম।