২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১

ভাইরাল সেই ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন দিনের মাথায় ওসিকে বদলি

ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর ও ছিনতাইয়ের দৃশ্য  © টিডিসি সম্পাদিত

চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার পাশে ভাইরাল সেই ছিনতাইয়ের তিন দিনের মাথায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের এই বদলির ঠিক আগেই কোতোয়ালি থানা এলাকায় দুটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর মধ্যে একটি হলো প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের পাথরঘাটার সতীশ বাবু লেনে একটি রিকশা থামিয়ে দুই ব্যক্তি এক যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিচ্ছেন। এসময় আশেপাশের মানুষ চিৎকার করে লোকজন জড়ো করতে লাগলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে তারা পালিয়ে যান।

ঘটনাটি ঘটে কোতোয়ালি থানার ঠিক পেছনেই। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযান চালায়। পরে মনির হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়। অন্য দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া, সম্প্রতি নগরের লালখানবাজার-কাজীর দেউড়ি সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। 

একের পর এক ছিনতাই, পথে পথে চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, থানার দেওয়াল ঘেঁষে ফুটপাত দখল বাণিজ্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, দিন দুপুরে মোবাইল ছিনতাইয়ের একাধিক ঘটনায়, একেবারে ভেঙে পড়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা অবস্থা।

আরও দেখুন: চুয়েটে চলছে শাটডাউন কর্মসূচি, প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মোঃ নাজমুল নূর কে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে । তারই পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) বদলি করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে   তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।