২৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৫

হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি, পাল্টা হামলায় সন্দেহভাজন যুবক নিহত

হোয়াইট হাউসের বাহিরে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সদস্য  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসের বাইরে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস নিশ্চিত করেছে, হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি চালানোর পর সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের পাল্টা গুলিতে এক সন্দেহভাজন যুবক নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসেই অবস্থান করছিলেন, তবে তিনি সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, নিরাপত্তার আওতায় থাকা কোনো ব্যক্তি বা হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম এই ঘটনার কারণে প্রভাবিত হয়নি।

সিক্রেট সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি ১৭তম স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সেখানে এক ব্যক্তি সিক্রেট সার্ভিসের একটি তল্লাশি চৌকির (চেকপয়েন্ট) দিকে অগ্রসর হন এবং হঠাৎ নিজের ব্যাগ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিক্রেট সার্ভিস পুলিশ তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালালে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গোলাগুলির এই ঘটনায় সেখানে উপস্থিত একজন সাধারণ পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে সিক্রেট সার্ভিসের কোনো কর্মকর্তা বা এজেন্ট এই ঘটনায় আহত হননি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি উচ্চপদস্থ সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিবিএস নিউজ’ ও ‘সিএনএন’-কে জানিয়েছে, নিহত ওই সন্দেহভাজন যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ২১ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম নাসেয়ার বেস্ট। আদালতের নথিপত্র এবং মামলার হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী সংস্থা সিক্রেট সার্ভিসের কাছে নাসেয়ার বেস্ট আগে থেকেই একজন ‘পরিচিত মুখ’ ছিলেন।

আরও পড়ুন: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে, চার্জশিট আজ

এর আগে গত বছর (২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালে) হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের আশপাশে একাধিকবার নাসেয়ার বেস্টের মুখোমুখি হয়েছিল পুলিশ। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের চারপাশ ঘুরে বেড়াতেন এবং বিভিন্ন প্রবেশদ্বার দিয়ে কীভাবে ভেতরে ঢোকা যায়, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। ২০২৫ সালের ২৬ জুন হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের একটি অংশের প্রবেশদ্বারে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে তাকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা জোরপূর্বক একটি মানসিক হাসপাতালে (সাইকিয়াট্রিক হসপিটাল) ভর্তি করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই, নাসেয়ার বেস্ট সমস্ত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হোয়াইট হাউসের বাইরে একটি নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে দায়িত্বরত একাধিক কর্মকর্তা তাকে অবরুদ্ধ করলে স্থানীয় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সেই সময় তিনি নিজেকে ‘যীশু খ্রীষ্ট’ বলে দাবি করেছিলেন এবং আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় ‘গ্রেপ্তার হতে চান’।

এদিকে তদন্তকারীরা নিহত নাসেয়ার বেস্টের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (সোশ্যাল মিডিয়া) প্রোফাইলগুলো খতিয়ে দেখছেন। ওই যুবকের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া অপর একটি পোস্টে তিনি নিজেকে আধ্যাত্মিক দাবি করে লিখেছিলেন, ‘আমি আসলে ঈশ্বরের পুত্র’।

হোয়াইট হাউসের মতো অতীব সংবেদনশীল এলাকায় এমন হাই-প্রোফাইল হামলার ঘটনাটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যৌথভাবে তদন্ত করছে মার্কিন প্রশাসন। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি এখনও নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে এবং পরবর্তীতে এই বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হবে।