২৩ মে ২০২৬, ০৭:৫৪

রেস্টুরেন্টে ‘গোপন বৈঠক’, যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার

গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার  © সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠক করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে শহরের ‘গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্ট’ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার অনুসারী ও ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—খোরশেদ আলম অপু, মেহেদী এবং সোহেল। এদের মধ্যে খোরশেদ আলম অপু চাঁদপুর জেলার মতলব থানাধীন ছেঙ্গারচর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে মেহেদী একই শাখার পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দুটি এজাহারভুক্ত মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: দুপুরের মধ্যে যে ৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার দুপুরে ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাষাঢ়ার একটি রেস্টুরেন্টে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের খবর ছড়িয়ে দেন। এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং খবর পেয়েই পুলিশ ‘গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্টে’ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

এই বিষয়ে এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নীরব রায়হান জানান, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের একটি গোপন বৈঠকের চেষ্টা করছিলেন। যুবলীগের নবগঠিত একটি কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে মূলত তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। বিষয়টি আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে অবস্থান নেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, ‘একটি রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠক চলছে—এমন সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’