১৫ মে ২০২৬, ১১:৪৫

বাবা ও তিন ভাই-বোনের পরে মারা গেলেন মা’ও

রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট  © সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাইপলাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের সবাই মারা গেলেন। গত সোমবার থেকে শুরু করে আজ শুক্রবার (১৫ মে) সকালের মধ্যে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পরিবারের অভিভাবকসহ তিন শিশু সন্তান। সবশেষ আজ সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা সালমা আক্তারের (৩২) মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত রবিবার ভোরের ওই বিস্ফোরণে পরিবারের পাঁচজনই গুরুতর দগ্ধ হন। গত সোমবার প্রথমে মারা যান পরিবারের প্রধান ও সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম (৩৫)। এরপর গত বুধবার তাদের ছোট মেয়ে কথা (৪) এবং বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ছেলে মুন্না (১২) মারা যায়। একইদিন দুপুর পৌনে ১টার দিকে মৃত্যু হয় মেজ মেয়ে মুন্নির (৭)। আজ শুক্রবার সকালে মা সালমা আক্তারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো পরিবারটিই নিঃশেষ হয়ে গেল।

আরও পড়ুন: ৬ বছর পর কলেজ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশের উদ্যোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে সালমা আক্তারের শরীরের ৬০ শতাংশ এবং শিশু মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাদের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।

উল্লেখ্য, গত রবিবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকায় একটি নয়তলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে ঘরে থাকা সবাই দগ্ধ হন। নিহত আবুল কালামের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া এলাকায়। পরিবারের সকল সদস্যের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।