গরুর হাটের দ্বন্দ্বে ঢাবি ছাত্রাবাসের সামনে টিটনকে হত্যা, জড়িয়েছে যেসব নাম
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন (৫৭) হত্যাকাণ্ডের পেছনে পশুর হাটের ইজারা ও এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মতে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, টিটন নিজেও একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সামনে কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুরের বসিলা পশুর হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০২৫ সালের ১৩ই আগস্ট জামিনে মুক্তি পাওয়া টিটন সম্প্রতি বসিলা হাটের ইজারা নেওয়ার জন্য শিডিউল কিনেছিলেন। ওই এলাকায় একক আধিপত্য বজায় রাখা শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীরা এই উদ্যোগের চরম বিরোধী ছিল।
আরও পড়ুন: ঢাবির ছাত্রাবাসের সামনে টিটন হত্যায় ফের আলোচনায় সেই ইমন
তদন্তে উঠে এসেছে, বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে টিটনকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই ওতপেতে থাকা কিলিং মিশনের সদস্যরা খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে, যাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপনের করা মামলার এজাহারে ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, কাইলা বাদল, শাহজাহান ও ভাঙ্গাড়ি রনিসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মোট চারজন এই কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয়। দুজন গুলি চালায় এবং বাকি দুজন অস্ত্র ও মোটরসাইকেল নিয়ে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। এই পুরো মিশনের সমন্বয় করে কাইলা বাদল। গুলি চালানোর পর উপস্থিত জনতা ধাওয়া দিলে শাহজাহান তার মোটরসাইকেল দিয়ে হামলাকারীদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাদী যাদের নাম উল্লেখ করেছেন আমরা তাদের বিষয়ে কাজ করছি। বিদেশে অবস্থানরত কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ইন্টারপোলের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হবে।’
অন্যদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বর্তমানে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।