২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:০৮

বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ নারীর, পরে ভিডিও বার্তায় প্রত্যাহার

ঢাকা থেকে শেরপুর হয়ে বকশিগঞ্জগামী ‘যমুনা পরিবহন’ বাসটি আটকে রাখে জনতা  © সংগৃহীত

ঢাকা থেকে শেরপুর হয়ে বকশিগঞ্জগামী ‘যমুনা পরিবহন’ নামে যাত্রীবাহী বাসে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বাসটির সুপারভাইজার ও হেলপারসহ চার-পাঁচ জন মিলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে স্থানীয় জনতা বাসটি আটক করলে পরে পুলিশ সেটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া। তবে পরে ওই নারী এক ভিডিও বার্তায় তার অভিযোগ প্রত্যাহারের কথা জানান। ভাড়া নিয়ে বাগবিতন্ডার পর ক্ষোভে এমন অভিযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি শ্রীবরদী উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার ভোরে গাজীপুর এলাকা থেকে তিনি ৬ বছরের সন্তান ও মামার সঙ্গে বকশিগঞ্জের উদ্দেশ্যে বাসটিতে ওঠেন। পথিমধ্যে টাঙ্গাইল এলাকায় তার মামা নেমে যাওয়ার সময় বাসের সুপারভাইজারকে অনুরোধ করেন যেন তাকে নিরাপদে বকশিগঞ্জে নামিয়ে অটোতে তুলে দেওয়া হয়।

নারীর অভিযোগ, বকশিগঞ্জে পৌঁছানোর পর অটোতে তুলে দেওয়ার কথা বলে সুপারভাইজার ‘পাখি’ তাকে বাসে বসিয়ে রাখে এবং তার শিশুকে খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে নিচে নামিয়ে দেয়। পরে বাসটি দ্রুত একটি স্থানীয় ফিলিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দরজা-জানালা বন্ধ করে সুপারভাইজারসহ ৪-৫ জন তার মুখ ও হাত-পা চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

আরও পড়ুন: ১৫% বিশেষ প্রণোদনা না পাওয়ায় জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ক্ষোভ

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী পরিবারের সদস্যদের জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় বিকেলে শেরপুর পৌর শহরের আখের মামুদ বাজার এলাকায় বাসটি আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি উদ্ধার করে সদর থানায় নিয়ে আসে। তবে এ সময় চালক ও সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘আখের মামুদ বাজার এলাকায় একটি বাস আটকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী তার আগের অভিযোগ প্রত্যাহার করে বলেন—বাসের ভাড়া নিয়ে স্টাফদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ক্ষোভের বসে তিনি এ অভিযোগ করেছিলেন।