০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:১৯

ফয়সালকে কি ফেরত দেবে ভারত? কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে সিআইডি

শরিফ ওসমান হাদি ও দুই আসামি  © সংগৃহীত

রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তারের পর এখন আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

বিদেশে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর গঠিত ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের নীতিমালা অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে মাত্র তিন দেশের। দেশ দুটি হচ্ছে-ভারত ও থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই চুক্তি শুধু ভারত পুলিশ বাংলাদেশের কোনো অপরাধীকে গ্রেফতার করলে সে ক্ষেত্রে দুই দেশের সমঝোতায় আসামিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যদিও পরবর্তীতে ২০২৪ সালে অন্তবর্তীকালীন সরকার কাতার, মালদ্বীপের সঙ্গে এই চুক্তি করে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর বন্দিবিনিময় চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। এই চুক্তির আইনি কাঠামো অনুযায়ী, শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারত সরকার আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা ইতিমধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ শুরু করেছি।’

আরও পড়ুন: হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনা নিয়ে যা বললেন আইজিপি

তিনি প্রক্রিয়ার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি সফল করতে আমাদের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। খুব শীঘ্রই ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি ইস্যু করে আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হবে। যেহেতু সিআইডি এই স্পর্শকাতর মামলাটির অধিকতর তদন্তভার গ্রহণ করেছে, তাই তদন্তের প্রয়োজনে যদি আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন, তবে তিনি রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশক্রমে এবং দুই মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক সহযোগিতায় সেখানে সরাসরি অবস্থান করতে পারবেন।’

ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, ‘হাদি হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে আমরা কোনো ধরনের আইনি সুযোগ হাতছাড়া করব না। কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় পথ ব্যবহার করেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরত অনা হবে।’

আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশে আনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে।’

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ চেয়ে নয়াদিল্লিকে অনুরোধ জানিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল আরোহী আততায়ীরা গুলি ছুড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে গত ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।

পরে এই হত্যার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। ডিএমপির ডিবি পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও বাদীপক্ষ এতে ‘নারাজি’ আবেদন জানায়। এর প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তবে এ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ছয়বার পিছিয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ, তার প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’ এবং তার পরিবারের সদস্যদের সকল ব্যাংক হিসাব ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে কোনো বিশেষ অর্থায়ন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিআইডি।