০১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩২

২৪ ঘণ্টায়ও খোলেনি দাদি-নাতনি হত্যার রহস্যের জট, তদন্তে ডিবি

ঈশ্বরদী থানা ও ইনসাইডে নিহত যুবতী  © সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কাটেনি রহস্যের জট। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, নিহত বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের রাব্বি মন্ডল ও শরিফুল ইসলাম নামে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জোড়া হত্যার ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার আভাস পাওয়া গেছে এবং দ্রুতই রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: কাতারের রাজধানী দোহাজুড়ে দফায় দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ

এর আগে, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতের পর ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে কান্নাকাটির শব্দ শুনে স্থানীয়রা বের হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত দেখে সবাই ঘরে ফিরে যান। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। এ সময় নাতনি জামিলা আক্তারকে খুঁজে না পেয়ে চারদিকে তল্লাশি শুরু হয়। পরে বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটি সরিষা ক্ষেতে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। নিহত সুফিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দিন খাঁর স্ত্রী এবং জামিলা আক্তার কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী ও হাফেজা ছিল। বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকায় তারা দাদি-নাতনি একসাথেই থাকতেন।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন ও পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ বা কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।