২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮

কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

ডিবির কাছে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কঠোর হুঁশিয়ারির পর পুলিশ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানালে পুলিশ একযোগে অভিযানে নামে। শাওন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে ১০টি পৃথক টিম গঠন করা হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শাওন ও তার বন্ধু রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গেলে ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় রিয়াদ প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হন শাওন।

নিখোঁজের দুদিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় জামায়াতের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিশাল বিন, বিপুল বিন, রাজ বিন, হৃদয়, দেবরাজ বিন ও মুন্না বিন। তাদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন চর জেলখানা এলাকার বিনপাড়ায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন।

শনিবার দুপুর ২টায় আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে নিহত নুরুল্লাহ শাওনের (২৬) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কয়েকশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শনিবার রাত ৮টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে শাওনের মরদেহ উদ্ধারের খবরে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে টাউন হল মোড়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

শাওনের জানাজায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

তিনি প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বলেন, ‘শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের উপদ্রব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।’

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং ৬ জনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি ও জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।